মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার খুরশিমুল-শিয়াদার সড়কের ছোট পাইকুরা এলাকায় শতবর্ষী একটি সেতু প্রায় তিন বছর ধরে ভাঙা পড়ে আছে। সেতুটির ছাদ ভেঙে পড়ার পর এলাকাবাসী স্লিপার ফেলে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও এখন সেটিও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির মূল অংশের ছাদ ভেঙে পড়েছে। ভাঙা অংশে স্লিপার ফেলে তৈরি করা অস্থায়ী পথ দিয়ে মানুষ হেঁটে পারাপার করছেন। অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ছোট পাইকুরা, করণশ্রী, খুছিরগা, দাসপাড়া, উলুকান্দা, মানাকান্দি, জগদীশপুর, খুরশিমুল, শিয়াদার, রামপাশা, বলদর্শী, গৌরাকান্দা, গোরাউত্রা, ফেরিরচর ও মল্লিকপুরসহ আশপাশের প্রায় ১৬টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত এই সড়ক ও সেতু ব্যবহার করে মোহনগঞ্জ পৌর শহরে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পার হতে হচ্ছে।
ছোট পাইকুরা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। এতদিনেও কেউ সংস্কার করেনি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কষ্ট করে পার হচ্ছে। কখন যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন সভায়ও জানানো হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সেতুটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অস্থায়ীভাবে স্লিপার দিয়ে তৈরি পথ দিয়ে চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সেতুর নিচে পানি বাড়লে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। তাই মানুষের দুর্ভোগ ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—তিন বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভাঙা থাকার পরও কেন স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না? দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ১৬ গ্রামের বাসিন্দারা।






