ছাত্রলীগ নেতার নামের সাথে মিল থাকায় জুলাইযোদ্ধা এক ডেন্টাল ডাক্তারের চাকরি হয়নি। ৪৮তম বিসিএস (রোল: ৪৮২০২৭০৪) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ডেন্টাল ডাক্তার নাহিদুর রহমান। কিন্তু নামের সাথে মিল থাকলেও তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির বিপরীত মত পোষণ করেন। সেই প্রমাণ তার বিভিন্ন কার্যকলাপ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বৈরাচার হাসিনা টিকে গেলে আন্দোলন করার অপরাধে তার শাস্তিও হতে পারতো। সেই জুলাইযোদ্ধার পক্ষে এনএসআই’র পজিটিভ রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে জয়েন করতে দেয়া হয়নি।
ডা: নাহিদ জানিয়েছেন, ৪৮তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও প্রথমবার পুলিশ ভেরিফিকেশন তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেয় তার এলাকার এক ছাত্রলীগ নেতার নামের সাথে মিল থাকায়। পরে অবশ্য পুলিশ সেই রিপোর্ট সংশোধন করে সম্পূরক রিপোর্ট দেয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুলিশের সেই সম্পূরক রিপোর্ট গ্রহণ না করে এনএসআইকে রিভেরিফিকেশন করার জন্য পুণরায় দায়িত্ব দেয়।
জানা গেছে, এনএসআই এ ধরনের দু’জনের তথ্য রিভেরিফিকেশন করে। সেই রিপোর্টে অপর একজনকে ৪৮তম বিসিএসের গ্যাজেটভুক্ত করলেও ডা: নাহিদুর রহমানকে আবারো বাদ দেয়া হয়। জানা গেছে, ডা: নাহিদুর রহমানের ফাইলটি বর্তমানে জনপ্রশাসনের নবনিয়োগ শাখায় পড়ে আছে।
নাহিদুর রহমানকে গেজেটভুক্ত না করায় জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার সাথে আন্দোলন করেছে এমন একজন ডা: আজিজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, এটা খুবই মর্মান্তিক। একজন জুলাইযোদ্ধার প্রতি এনএসআই’র মতো সংস্থার পজিটিভ রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও শুধু ফ্যাসিস্ট এক ছাত্রলীগের নামের সাথে মিল থাকায় গেজেটভুক্ত করা হয়নি। আমরা এটা মেনে নেব না, আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের (স্বাস্থ্য) লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিন পর এর ফল প্রকাশ হলে ৫ হাজার ২০৬ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হন। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ৩ হাজার ১২০ জন চিকিৎসককে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। এর মধ্যে দুই হাজার ৮২০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ছিলেন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, চুড়ান্ত গেজেটে বাদ পড়া চিকিৎসকরা আবেদন করলে পুণরায় ভেরিফিকেশন করার পর ১৮৪ জনকে গত ২৫ আগস্ট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ৪৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করে কাজ করছেন।
একইসাথে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি চূড়ান্ত গেজেটে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে বাদ দেয়া হয়। এর মধ্যে ডা: নাহিদ ও তার সহপাঠী সিরাজাম মুনিরাকেও নামের মিলের কারণে বাদ দেয়া হয়। সিরাজাম মুনিরার নামে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে আরেকজন ছিল যে ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। সিরাজাম মুনিরা আবেদন করলে তাকে পরে নিয়োগ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ডা: নাহিদুর রহমান বলেন, আমার মা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি গত নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে জনসংযোগ করেছেন। ভেরিফিকেশন করার সময় পুলিশ আমার বাবাকে, ‘ওর মাতো জামায়াত করেন’ মন্তব্য করেন। নাহিদুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের নেতার নামের পর আমার মা জামায়াত করেন- এ কারণেও হয়তো আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে।





