মোহাম্মদ জাফর ইকবাল
‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হবে। এরপর আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সংবাদ ১৮তম সংশোধনী বিল আনা হবে।’ সম্প্রতি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া বিল প্রস্তুত করার যে সময়সীমা কমিটি নির্ধারণ করেছে, তা অত্যন্ত টাইট বা সংক্ষিপ্ত। বিরোধী দলগুলোর বড় একটি অংশকে আলোচনার বাইরে রেখে এত কম সময়ে একটি টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য সংবিধান প্রণয়ন করা কমিটির জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে। অতীতে পঞ্চম, সপ্তম বা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের আদালতের রায়গুলোর উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য এই সংস্কারে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট বা একটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক ভাঙন রেখে সংবিধান সংশোধন করলে ভবিষ্যতে তা আবার বাতিলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অপর দিকে, দেশে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত হতে যাওয়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চ পরিষদ আইনি প্রক্রিয়ার আলোকেই চূড়ান্তভাবে বাস্তবের মুখ দেখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখন সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে সংবিধান সংশোধন। এই বিশাল সাংবিধানিক রূপান্তর প্রক্রিয়াটি কিভাবে এগোচ্ছে, এর কার্যপরিধি কতটুকু, কত সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে এবং উচ্চ পরিষদ চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বহুমুখী আলোচনা, বিতর্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণ। সংসদের প্রধান দল বিএনপি এবং তাদের সমমনা দলগুলো এই সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার পক্ষে। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় ঐক্য এই বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।
জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের খসড়া রিপোর্ট চূড়ান্ত করতে খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চায় সরকারি দল বিএনপি। এজন্য কমিটি প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করবে। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিল আকারে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে।
কমিটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এর মধ্যে ১৫টি দল তাদের প্রতিনিধি নিয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি তাদের লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে অংশ নিতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনো এই কমিটিতে অংশ নেয়নি। সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর মধ্যে বাজেট বা অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে এবং অপচয় রোধে সরকার জুলাই-জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের (উচ্চকক্ষ) রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০০ সদস্য নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক দল একমত। এটি সরাসরি জনপ্রতিনিধি দিয়ে নির্বাচিত হবে না বরং সংসদে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত হবে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা এই উচ্চকক্ষের থাকবে না। জুলাই সনদে কিছু দলের নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্ন মত) প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, যে বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করব। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংস্কার চায় না, মাঠে এমন অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। সংবিধানের এই সংশোধনী ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কিনা- প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে না হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না, এসব ধারণা ঠিক নয়। সংবিধান কোনো সর্বকালের জন্য অপরিবর্তনশীল গ্রন্থ নয়। সমাজের চাহিদা অনুসারে তা পরিবর্তিত হয়। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তারা জনচাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের যেকোনো বিধান পরিবর্তন করতে পারবে। পৃথিবীর অনেক দেশে শতাধিকবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল যখন আসবে, তখন তারা সেখানে অংশ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সূত্র মতে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই আদেশের ওপর গণভোট হয় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন। এই আদেশে বলা হয়েছিল, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে। আদেশে বলা হয়েছিল, হ্যাঁ, জয়ী হলে জুলাই সনদে বর্ণিত উপায়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতাসহ ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, সিএজি, পিএসসি, দুদকসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে হবে। এগুলো বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বাকি ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে সব দল ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলোও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক আদেশ অনুযায়ী। বাকি সংস্কার প্রস্তাবগুলো নির্বাচনে বিজয়ী দল তাদের নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্ন মত) অনুযায়ী করতে পারবে। জামায়াত, এনসিপি সরাসরি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেষ সময়ে গণভোটে হ্যাঁ চান। গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুমোদিত হয়। জামায়াত জোট ও ইসলামী আন্দোলনের ৭৮ এমপি শপথ নেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের। তবে বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র এমপিরা শপথ নেননি। সরকার গঠনের পর বিএনপি জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ছিল অবৈধ। দলটি গণভোট অধ্যাদেশও পাস করায়নি। তবে নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছে।
সূত্র মতে, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এ জন্য সংসদে ১৭ সদস্যের সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে। তবে সরকারের দেয়া এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদল বলেছে, তারা সংবিধান সংশোধন নয়, ‘সংস্কার’ চায়। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা (সংবিধান) সংস্কার চাই।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার-প্রক্রিয়ার বিকল্প তৈরির উদ্যোগ আমরা গ্রহণযোগ্য মনে করি না। তাদের দাবি- দেশের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কারের রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্বাধীন ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করতে হবে, সংসদের বিশেষ কমিটি দিয়ে নয়। এই বিরোধিতার জেরে বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিটির মতবিনিময় সভাও বর্জন করেছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং বর্তমান সংশোধন প্রক্রিয়ার আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিচ্ছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হলেও ‘মৌলিক কাঠামো’ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদের একক এখতিয়ার নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে পঞ্চম, সপ্তম বা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের আদালতের রায়গুলোর উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য এই সংস্কারে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট বা একটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক ভাঙন রেখে সংবিধান সংশোধন করলে ভবিষ্যতে তা আবার বাতিলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বা উচ্চকক্ষ গঠন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি প্রধানমন্ত্রীর একক ও অনিয়ন্ত্রিত কর্তৃত্ব হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, উচ্চকক্ষ বা সিনেট যেন কেবল একটি ‘আলঙ্কারিক’ বা রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। আইন প্রণয়নে উচ্চকক্ষের কতটুকু ভেটো দেয়ার ক্ষমতা থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করা দরকার, কারণ খসড়া সুপারিশে বলা হয়েছে উচ্চকক্ষ সরাসরি কোনো নতুন আইনের প্রস্তাব করতে পারবে না।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা বেসিক স্ট্রাকচার সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায় না। তার যুক্তি- অতীতে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী আনা হলেও পরবর্তী সময়ে এসব সংশোধনীর বিভিন্ন অংশ আদালতের রায়ে বাতিল বা অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে। তাই একই ধরনের আইনি ঝুঁকি এড়াতে সংবিধান সংস্কারের জন্য গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে কোনো পরিবর্তন অনুমোদিত হলেই সেটি চূড়ান্ত সাংবিধানিক বৈধতা পেয়ে যায় না। কোনো সংশোধন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সাথে সাংঘর্ষিক হলে পরবর্তী সময়ে আদালতে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রশ্নে সাধারণ সংসদের সংশোধনী ক্ষমতা প্রয়োগের পরিবর্তে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়াটি এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এক দিকে সংসদের বিশেষ কমিটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের ডেডলাইন সামনে রেখে দ্রুত বিল পাসের দিকে এগোচ্ছে, যা পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পর উচ্চ পরিষদ বা সিনেট গঠনের পথ প্রশস্ত করবে। অন্য দিকে প্রধান বিরোধী শিবিরের রাজপথ ও সংসদের বর্জন নীতি এই প্রক্রিয়ার সর্বজনীনতার ওপর একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে। রাষ্ট্রকে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা করতে এবং জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত চেতনা ধরে রাখতে হলে, সরকার ও বিরোধী পক্ষকে সঙ্কীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্র্ধ্বে উঠে একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নতুন সংবিধান ও উচ্চ পরিষদকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।





