এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশচট্টগ্রাম

সাগর-নদী সবুজ অরণ্য বেষ্টিত সমগ্র দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে গড়ে উঠতে পারে বিশ্বমানের আধুনিক কোস্টালট্যুরিজম। দেশের মধ্যে সমগ্র চট্টগ্রাম জেলা একটি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্ভাবনাময় জেলা। এক দিকে সবুজঘন অরণ্য অন্য দিকে পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য ছড়া আঁকাবাঁকা পাহাড় মাড়িয়ে নদী হয়ে সাগরে মিশে যাওয়া এক দুর্লভ দক্ষিণ চট্টগ্রাম। সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ার   সাথে সাথে পাখির কলকাকলিতে মুখর এই সমগ্র দক্ষিণ চট্টগ্রাম ।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পর্যটনই একক অন্যতম অর্থনৈতিক ভাণ্ডার  হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এই পর্যটন শিল্প প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ অপরূপ এই দক্ষিণ চট্টগ্রাম সম্ভাবনাময় বৃহৎ পরিসরে পর্যটন শিল্পের হাতছানি দিচ্ছে। এখানে উপকূলজুড়ে কোস্টাল ট্যুরিজম শিল্প গড়ে তোলা যায়।
এ দিকে গত মাসে পর্যটন শিল্পের প্রসারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: সামীমুজ্জামান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আব্দুর রউফ, এনডিসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর হলেও পর্যটন খাতে উন্নয়নের নজির কম। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই আমরা  পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। তবে দেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার যাত্রা সহজ হবে। এ যাত্রায় অংশীজনদের সবাইকেই পাশে চাই।
মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনকৃত ‘এসডিজি ভিলেজ’ রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামসহ আরো কয়েকটি গ্রাম নিয়ে পর্যটন স্পট তৈরির কথা আমরা ভাবছি। এভাবে পুরো বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার পর্যটন সম্ভাব্য স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে দেশকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিতে চায় বর্তমান সরকার।
ওই সেমিনারে সচিব ফাহমিদা আখতার, বলেছেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করার জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ঞড়ঁৎরংস ঝধঃবষষরঃব অপপড়ঁহঃ (ঞঝঅ) এর কাজ শুরু করেছে। তা ছাড়া তিনি ওই সেমিনারে আরো বলেন, ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। বিগত সময়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অগ্রগতি হয়নি এ খাতে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে সমন্বয়হীনতা দূর করে পর্যটন খাতকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
ওই সেমিনারে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব বর্তমানে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের অবস্থান, ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ, উন্নয়নকর্ম পরিকল্পনা এবং করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ওয়াসিউল ইসলাম।
 জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরকারিভাবে বিশেষ করে বেজার উদ্যোগে, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক : টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নে সমুদ্র উপকূলের প্রায় ৯৬৭ একর এলাকাজুড়ে, নাফ ট্যুরিজম পার্ক জালিয়ার দ্বীপ টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত একটি চমৎকার দ্বীপ নিয়ে এবং সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক : মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে সাগর উপকূলের বাঁশখালী বাহারছড়াসহ বিস্তীর্ণ ৩৭ কিলোমিটার এবং আনোয়ারা পার্কিসমুদ সৈকতসহ প্রায় ১৫ কিলোমিটার নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত নিয়ে নতুন ট্যুরিজম প্রকল্প এখন সময়ের ব্যাপার। জানা গেছে, ইতোমধ্যে পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্সে পরিণত করার লক্ষ্যে ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প কাজ প্রায় শেষ পর্যায় রয়েছ্ ে।
বাঁশখালী সমদ্র সৈকত চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে বাঁশখালী ৩৭ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত রয়েছে। বাঁশখালীর ছনুয়া, গণ্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদের উপকূলজুড়ে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এই সৈকতের অবস্থান। কক্সবাজারের মতোই বাঁশখালীর সমুদ্র সৈকত। সৈকতের কোল ঘেঁষে রয়েছে সারিসারি ঝাউগাছ ও ঘন ঝাউ বাগান। জোয়ার-ভাটার ঢেউয়ের শব্দ পর্যটকের মনকাড়ে সবার। ইতোমধ্যে অঘোষিতভাবেই বিস্তীর্ণ এই সমুদ্র সৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন স্পট।
চট্টগ্রামের আনোয়ায় বঙ্গোপসাগরের কূল বা সমুদ্র সৈকত নিয়ে গড়ে উঠেছে পারকি সমুদ্র সৈকত। এ ছাড়াও অঘোষিত ভাবে পারিকির পাশে গড়ে উঠেছে ফুলতলা নামক এলাকার বিস্তীর্ণ উপকূল ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন স্পট।
প্রতিদিন বাঁশখালীর কয়েক কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত ঘিরে  ভ্রমণপিপাসুদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশখালী উপকূল ঘিরে এমন উপচে পড়া ভিড় যেন দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা কক্সবাজারকেও হার মানায়। সে কারণে এলাকাবাসী মনে করেন সামান্য পৃষ্টপোষকতা পেলে বাঁশখালী উপকূলের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণী পর্যটন স্পট।