নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ‘বাটেক্সপো ২০২৬’-এর মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আয়োজনকে রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, গণতান্ত্রিক সৌজন্য ও ব্যবসায়ী সমাজের ঐক্য রক্ষায় বাটেক্সপোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভারসাম্যের ঐতিহ্য বজায় রাখা প্রয়োজন। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘বাটেক্সপো ২০২৬’-এর রজতজয়ন্তীকে জামায়াতে ইসলামী স্বাগত জানায় এবং এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে। বাটেক্সপো কেবল একটি বাণিজ্য প্রদর্শনী নয়; বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জাতীয় পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
তিনি বলেন, বাটেক্সপোর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রধান অতিথি করার একটি রাজনৈতিক সৌজন্য ও ভারসাম্যের ঐতিহ্য ছিল। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ- বিশ্ববাসী, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও কূটনৈতিক মহলের কাছে এমন একটি বার্তা যেত।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দুঃখজনকভাবে এবারের আয়োজনে দীর্ঘদিনের সেই ভারসাম্যপূর্ণ ধারার ব্যত্যয় ঘটেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে একটি জাতীয় বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের নির্দলীয় ঐতিহ্য বদলে যাওয়া কাম্য নয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে বাটেক্সপোর সর্বজনীন চরিত্র ক্ষুণœ এবং ব্যবসায়ী সমাজের সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বর্তমানে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি সঙ্কট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে বিভাজনের পরিবর্তে বিশ্বদরবারে ঐক্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেয়া প্রয়োজন।
বিজিএমইএর সাধারণ সদস্য ও পরিচালকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরোধিতা নয় উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এটি শিল্পের ঐতিহ্য ও দেশের ভাবমর্যাদা রক্ষার একটি স্বাভাবিক দাবি।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এ অবস্থান কোনো দলীয় স্বার্থে নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক সৌজন্য এবং ব্যবসায়ী সমাজের ঐক্য রক্ষার তাগিদ থেকে। বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনকে রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি।
বাটেক্সপোর আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ভবিষ্যতের সব বাণিজ্যিক আয়োজনে গণতান্ত্রিক সৌজন্য ও জাতীয় ঐক্যের অতীত সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে। পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিফলনই প্রত্যাশা করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।





