ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের আকাক্সক্ষা নস্যাৎ করতেই সরকার ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো: নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের নামে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি পাশ কাটানোর চেষ্টা চলছে। দ্রুত এ ‘নাটক’ বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলের সর্বোচ্চ পরিষদ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রাইমারি নিয়োগে প্রায় আড়াই হাজার চাকরি প্রার্থীকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোন ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম এ ধরনের কোন সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ নেই। এমনকি যারা আমাদের আন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন, এরকম অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। এ চাকরি প্রার্থীদের পাশে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি আছে। যদি একজন চাকরি প্রার্থীকেও অন্যায়ভাবে এ চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়ব।’ 
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের এ দু’টি ঘটনা হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে। কিন্তু সারা দেশের পরিস্থিতি এইটা। বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরো বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এজন্য বর্তমান সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা সম্ভব নয়। এনসিপির নেতাকর্মীদের আহ্বান, জনগণকে নিয়ে চাঁদাবাজি দখলবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ 
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘের ভাষণ নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ ভাষণে  জনগণের প্রত্যাশা উঠে আসেনি। সেখানে তিনি তার দলীয় যে ইশতেহারের যে এজেন্ডা ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এ ধরনের অনেক কিছু বলেছেন, কিন্তু অলরেডি এ প্রকল্পগুলো দেশে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, আমরা যেন জ্বালানি পাই সেটা তিনি তুলে ধরতে পারেননি। সীমান্ত হত্যা, পুশইন, ভারতের গণহত্যাকারী হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া, সেখানে আ’লীগ দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেখানে প্রেস ব্রিফিং করছে এবং দিল্লি সরকার এটা হতে দিচ্ছে। দিল্লির এ যে আগ্রাসী রূপ, এটা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারতেন।’ 
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা। সে নির্বাচন দফায় দফায় পিছানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন দলীয়করণ করে নির্বাচনটাকে যাতে ফেয়ার না হয়, সরকার সে ধরনের বন্দোবস্তের চেষ্টা করছে। আমরা এটা স্পষ্টভাবে বলব যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ন্যূনতম আশঙ্কা তৈরি হয় যে, এ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হবে তাহলে কিন্তু এটা আমরা জাতীয় নির্বাচনের মতো দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভেবে বসে থাকব না। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা এটা প্রতিরোধ করব।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখছি যে সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে একটি কমিটি করা হয়েছে। সংশোধনের নামে সংস্কারের আকাক্সক্ষাকে ধূলিসাৎ করার একটা চেষ্টা হচ্ছে এ কমিটি। আমরা রাষ্ট্রের কসমেটিক্স সার্জারি চাই না। আমরা চাই মৌলিক সংস্কার। এর আগেও ১৭ বার সংশোধন হয়েছে। কোনটাই মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই আমরা বলব যে দ্রুত সময়ে এ নাটক বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে।’