কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারতে বসে শেখ হাসিনার লন্ডনে কথা বলাকে ‘অর্থহীন কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। 
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি জুনের সাথে সাক্ষাতের পর সংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বুধবার লন্ডনে ভার্চুয়ালি আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যোগ দেবেন। এ ব্যাপারে আমরা কি ব্রিটেনকে কোনো বার্তা দেবো?
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা তো ব্রিটিশ সরকার করছে না। তারপরও অসুবিধা নাই। যেখানে জানানোর দরকার আমরা জানাব। কিন্তু একটা পালিয়ে যাওয়া  স্বৈরাচার ভারতে বসে লন্ডনে ভার্চুয়ালি কথা বলবে, এগুলো ওয়ার্থলেস অ্যাক্টিভিটিজ (অর্থহীন কাজ)। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এখন কিছুই নাই। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সব ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসিনা নিজেকেও শেষ করে দিয়েছে, দলকেও শেষ করে দিয়েছে, পরিবারকেও শেষ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে আসবার কোনো সুযোগ তার নাই। যাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়, তাদের ফেরার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। যারা বিতাড়িত, তাদের রাজনীতি শেষ। বিতাড়িত হলে মানুষ ধরে নেয় এদের দিয়ে কিছু হবে না। এখানেই তাদের ইতি। এর আগে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা তা কাটিয়ে উঠব। পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে পরিবেশ যখন সহায়ক হবে, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে।
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি যেতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, গুঞ্জন চৌধুরীকে নিয়ে তো আমি আলাপ করতে পারি না। আমি বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলি। আর বাস্তবতা হচ্ছে, ভারতের হাইকমিশনারের সাথে আজ বেশ ভালো বৈঠক হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা একটা ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারি।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে হাইকমিশনারের সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই রকম কিছু আলাপ হয়নি।
সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীকে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া আমাদের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। আমার মনে হয় এটা নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো প্রয়োজন নেই। সময় যখন আসবে, নিশ্চয়ই সফর হবে। একটা সময়ের মধ্যে সব কিছু ইতিবাচক হবে। এখানে নেতিবাচক কিছু নেই। সফর নিয়ে আমি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশের মানুষও ইতিবাচক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা দু’পক্ষেরই রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে সফরটি হবে।
ভারতের হাইকমিশনারের সাথে প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলির পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং জনগণের মঙ্গলের জন্য ভারতের সাথে ভবিষ্যতমুখী এবং সম্মানজনক উপায়ে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।