আলজাজিরা

ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের ১২ বছরব্যাপী অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। দেশটিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলে পরিচালিত ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভ’ সমাপ্তির ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এরবিলের সামরিক ঘাঁটি থেকে সব মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সৈন্য এবং সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি সরিয়ে নেয়া হয়েছে, যা এই অভিযানের সমাপ্তি ঘটাল। পারনেল এই প্রত্যাহারকে ১২ বছরের দীর্ঘ অভিযানের সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন। একই সাথে এর মাধ্যমে যৌথ বাহিনীর সামরিক মিশন থেকে ইরাকের নিজস্ব সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের এক বড় ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হলো। ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থান ঘটলে তাদের রুখতে আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি ইরাকের বিশাল ভূখণ্ড দখল করে কথিত খেলাফত ঘোষণার পর তাদের দমনে বিমান হামলা, সামরিক পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই জোট। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকের কোনো নগর বা এলাকা আইএসের নিয়ন্ত্রণে নেই, তবুও দেশটির দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে তাদের গোপন তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেখানে বিচ্ছিন্ন হামলা ও গেরিলা কৌশল বজায় রেখেছে দলটির সদস্যরা।
এখন থেকে ইরাকের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব স্থানীয় বাহিনীর হাতে ন্যস্ত থাকছে। পারনেল স্পষ্ট করেন যে, আইএসকে পুরোপুরি চাপে রাখতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী ও কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারা মূল ভূমিকা পালন করবে। দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে স্থানীয় সরকারের হাতে নিরাপত্তার ভার তুলে দেয়াকে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি সশস্ত্রবাহিনীর বদলে ইরাকের নিজস্ব সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংগঠিত করার পথ সুগম হলো। তবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি মানেই মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের কৌশলগত বা সার্বিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, আইএসসহ অন্যান্য সক্রিয় উগ্রবাদী দলের ওপর নজর রাখা এবং ইরাকি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে এখনো তাৎপর্যপূর্ণ। পেন্টাগনের ভাষ্যানুযায়ী, এই কার্যক্রমের ইতি টানা মূলত আন্তর্জাতিক মিশন থেকে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রতীক। আগামী দিনে বিদেশী সহায়তা ছাড়া একক দক্ষতায় উগ্রবাদ মোকাবেলায় ইরাকি বাহিনীর সামর্থ্যই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।