কলা ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। মেলে ফাইবারও। কলা সুস্বাদু এবং উপকারীও। পাকা কলায় শর্করা এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণও যথেষ্ট। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেল্থ’-এর তথ্যানুযায়ী, একটি মাঝারি কলায় প্রায় ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ০.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬ থাকে, যা শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে, স্নায়ুর কার্যকারিতা সচল রাখতে এবং প্রোটিন বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কলায় থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হৃদ্যযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পুষ্টিকর উপাদান খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য জরুরি।
কলা অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও ফলটি খাওয়ার ‘সঠিক সময়’ নিয়ে মাঝে মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। কেউ বলেন, খালি পেটে কলা খাওয়া যায় না। কেউ বলেন, সকালে কলা খাওয়া ভালো। শারীরচর্চার আগে কিংবা সন্ধ্যায়Ñ কখন কলা খাওয়া উচিত, কখন উচিত নয়?
সকালের নাশতা : পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সকালের নাশতায় কলা রাখাই যায়। কারণ, ফলটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে খালি পেটে কলা খেলে এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে আবার দ্রুত নামিয়ে দিতে পারে। তাই সকালের দিকে কলা খেলে তা ওটস, দই, বাদাম বা ডিমের মতো প্রোটিন ও ফ্যাটযুক্ত খাবারের সাথে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
শারীরচর্চার আগে এবং পরে : শারীরচর্চার আগে বা পরে কলা খাওয়া যায়। শারীরচর্চার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে কলা খাওয়া দারুণ উপকারী। ফলটি সহজে হজম হয়। কার্বোহাইড্রেট তাৎণিক শক্তি দেয় এবং পটাশিয়াম পেশির টান প্রতিরোধে সাহায্য করে। শারীরচর্চার পরে এটি পেশির য় সারাতেও সহায়ক।
বিকেলে : কাজের ফাঁকে কান্তি কাটাতে বা ভাজাপোড়ার বদলে বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে একটি কলা খাওয়া যায়।
রাতে বা ঘুমোনোর আগে : কলায় থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ স্নায়ু শান্ত করতে এবং মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ঘুমে সহায়ক। তবে যাদের সর্দি-কাশি বা হজমের সমস্যা আছে, তাদের রাতে কলা এড়িয়ে চলাই ভালো।
কিছু স্বাস্থ্য সতর্কতা
ডায়াবিটিস থাকলে : ডায়াবেটিকেরা কলা খেতে পারেন, তবে পরিমিত। অতিরিক্ত পাকা কলা না খেয়ে পাকা; কিন্তু একটু শক্ত কলা খাওয়া নিরাপদ।
কিডনির সমস্যা : যাদের কিডনির গুরুতর রোগ রয়েছে, তাদের শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যাওয়া তিকর হতে পারে (হাইপারক্যালেমিয়া)। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। ইন্টারনেট।
হেলথ টিপস





