বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর সাতক্ষীরা থেকে বদলি হয়ে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে নিয়োগ পান ফিরোজ। বদলির ১ মাসের মধ্যে নানাভাবে নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ঘুষবাণিজ্য শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে তার আড়াই লাখ টাকা লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফিরোজের বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দিনভর আটকে রেখে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। পরে দেড় লাখ টাকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান। ব্যবসায়ীকে আটকের এ অভিযানে এক নারীকে আটক করে তার ব্যাংক হিসেবে থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন এসআই ফিরোজ। পরে ওই নারীকে একটি প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠালেও তার ব্যাংক হিসেব থেকে লুট করা টাকা পুরোটাই আত্মসাৎ করেন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর এসআই ফিরোজের এসব কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, এসআই ফিরোজ গত ১৭ অক্টোবর সকালে পান্না নামে এক নারীকে আটক করেন রাজধানীর কুড়িল এলাকা থেকে। ওই নারীকে আটক করে নিউ মার্কেট থানার একটি মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো চ ৫৪০৪০৪) তুলে নেন। এপর ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন তার ব্যাংক হিসাবে সাড়ে ১২ লাখ টাকা রয়েছে। ওই টাকা তুলতে ওই নারীকে নিয়ে এসআই ফিরোজ মাইক্রোবাসে রূপগঞ্জের গাউসিয়া যান। সেখানে তিনি শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। তবে ওই ব্যক্তির সাথে ওই নারীর কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল না। এ সময় শফিকুলকে আটক করে তার সাথে থাকা আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যান। পরে শফিকুলের পূর্ব পরিচিত আরমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে শফিকুলকে আটকের বিষয়টি জানান। এরপর শফিকুলকে ছাড়াতে হলে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। না দিলে শফিকুলকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেয়। ব্যবসায়ী আরমান শফিকুলকে ছাড়াতে এসআই ফিরোজকে দেড়লাখ টাকা দিতে রাজি হন। পরে টাকা নিয়ে তিনি শফিকুলের আত্মীয় এক সাংবাদিককে পরিচয় গোপন রেখে এসআই ফিরোজের কাছে যেতে বলেন। এসআই ফিরোজ শফিকুলের আত্মীয় ওই সাংবাদিকের কাছেও ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দেড় লাখ টাকা দেয়ার পর তিনি ছাড়তে রাজি হন। এসআই ফিরোজ শফিকুলসহ তিনজনকে থানায় নিয়ে যান। পরে ওসির কক্ষে গিয়ে জানান, পান্না নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এ অভিযান শফিকুলসহ দু’জনকে সাক্ষী হিসেবে থানায় আনা হয়েছে। পরে তাদের ছেড়ে দিলেও শফিকুলের কাছ থেকে নেয়া আড়াই লাখ টাকা ফেরত দেননি। বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ থাকতে শফিকুলকে সতর্ক করেন এসআই ফিরোজ।
এ ব্যাপারে এসআই ফিরোজের সাথে কথা বলা হলে জানান, তিনি অভিযান চালিয়েছেন সত্য। কিন্তু ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
ডিএমপিতে যোগ দিয়েই ব্যবসায়ীর ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর সাতক্ষীরা থেকে বদলি হয়ে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে নিয়োগ পান ফিরোজ। বদলির ১ মাসের মধ্যে নানাভাবে নিরীহ...





