মৃত্যুবার্ষিকীতে সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। গতকাল থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রাবন্ধিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে ‘সোনালী কাবিন পদক’ দেয়া হবে।
কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ এরই মধ্যে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৫’ ঘোষণা করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্মরণোৎসবে গতকাল সকালে কবির কবরে সুরা ফাতিহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়। উৎসবে বইমেলা, কারুপণ্য প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও কবি-সাহিত্যিকদের আলোচনা সভা হয়।
এ ছাড়া বইমেলা উপলক্ষে লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকরা আল মাহমুদ স্মরণ সংখ্যা করেছেন। ঢাকায় বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন কবির স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন, চিরদিন চিরকাল। বেঁচে থাকবেন তার কর্মে। জাগ্রত থাকবেন আমাদের মর্মে।
আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছেÑ লোক লোকান্তর; কালের কলস; সোনালী কাবিন; মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো; আরব্য রজনীর রাজহাঁস; বখতিয়ারের ঘোড়া; অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না; দিনযাপন; দ্বিতীয় ভাঙ্গন; নদীর ভেতরের নদী; না কোনো শূন্যতা মানি না; ময়ূরীর মুখ; প্রেম প্রকৃতি দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা ও উড়াল কাব্য।

গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- পানকৌড়ির রক্ত; সৌরভের কাছে পরাজিত; গন্ধবনিক; আল মাহমুদের গল্প; গল্পসমগ্র; প্রেমের গল্প। এ ছাড়া উপন্যাস- কবি ও কোলাহল; কাবিলের বোন ও উপমহাদেশসহ বহু প্রবন্ধ ও শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান সোনালী কাবিনের কবি আল মাহমুদ। কবিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রিশেষে শুভ শুক্রবারে/মৃত্যুর ফেরেস্তা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ;/অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে/ ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেব এ আমার ঈদ।’
কবির আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে অলৌকিকভাবেই। নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী কোনো এক শুক্রবারই তিনি চির বিদায় নেন। আয়ের খবর শোনার সাথে সাথে অমর একুশে বইমেলার মাঠে হাহাকার ওঠে। লেখক-পাঠকেরা শোকে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান,বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী স্বপ্নতরী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোবারক হোসেন।
কবি আল মাহমুদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভর্নমেন্ট মডেল গার্লস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন মৃধা, কবি পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। কবির সন্তান মীর মোহাম্মদ মনির, কবির পুত্রবধূ, কন্যাসহ তার নাতি-নাতনীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মীর মোহাম্মদ মনির, যিনি তার পিতার সাহিত্যকীর্তি ও ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা দিক তুলে ধরেন।