চীনের দুই পুঁজিবাজার সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির অর্থ আজ সোমবার দেশে পৌঁছবে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে সংগৃহীত এ টাকা মঙ্গলবারের মধ্যে ডিএসইর সিটি ব্যাংকের হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে যা পরবর্তীতে সদস্যদের হিসাবে জমা হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
প্রসঙ্গত চলতি বছরের ১৪ মে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ৯৪৭ কোটি টাকায় ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বার করে সেনজেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের চীনা কনসোর্টিয়াম। আইনি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার শেয়ার হস্তান্তর ও টাকা বুঝে পাওয়ার মধ্য দিয়েই কৌশলগত অংশীদারের কাছে ডিএসইর শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটছে। আর এ সাথে ডিএসই পর্ষদে যোগ দেবেন কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামকে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্টের (নিটা) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দেয়। মূলত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিদেশী বিনিয়োগের টাকা দেশে আনা এবং এ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বিদেশে পাঠাতে নিটা অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হয়। কিন্তু তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি হওয়ায় চীনা কনসোর্টিয়ামের প থেকে এর শেয়ার কেনার টাকা নিটা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুমতি চেয়েছিল ডিএসই।
ডিএসই সূত্র জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ডিএসইর পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়েছে। এ সভায় ডিএসই ও চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগের অর্থ ও শেয়ার হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এ সভার মাধ্যমেই চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি হিসেবে সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের কারিগরি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপপরিচালক শি ওয়েনহাই ডিএসই পর্ষদে দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, বর্তমানে ডিএসই একটি তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি। তবে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন (ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণ) স্কিম অনুসারে কৌশলগত অংশীদারের কাছে শেয়ার বিক্রি ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে আমরা একটি বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছি। সামনে আইপিওতে ডিএসইর শেয়ার বিক্রি করা হবে। এসব দিক বিবেচনা করে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও আমাদের আবেদনের পরিপ্রেেিত নিটা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডিএসইর শেয়ার কেনার টাকা পরিশোধের জন্য চীনা কনসোর্টিয়ামকে অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডিমিউচুয়ালাইজেশন বিধি অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর শেয়ারের ৪০ শতাংশ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ কৌশলগত বিনিয়োগকারীর জন্য ও ৩৫ শতাংশ এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তিতে আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ দিকে শেয়ার বিক্রির মোট টাকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাজারেই থাকবে বলে মনে করছেন ডিএসইর ব্রোকার ডিলাররা। এ প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও প্রাইলিংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: জহিরুল ইসলাম বলেন, সদস্যদের প্রাপ্য টাকা কোম্পানি হিসাবেই জমা হবে। এখান থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের খুব বেশি সুযোগ নেই। ব্রোকার ডিলারদের প্রথম কাজ হবে মূলধন বাড়িয়ে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তাই সরকারের রাজস্ব আদায়ের পর পর বাকি টাকার ৭ শতাংশই বাজারে থাকবে। এর মাধ্যমে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে যা সার্বিক বাজার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে।
এর আগে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি কৌশলগত অংশীদারদের প্রস্তাবসংবলিত দু’টি দরপত্র উন্মোচন করে ডিএসই। দরপত্র প্রক্রিয়ায় কৌশলগত অংশীদারের জন্য সংরতি ডিএসইর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ শেয়ারের এক-চতুর্থাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনতে দু’টি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব জমা হয়। এর মধ্যে সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতি শেয়ারের জন্য ২২ টাকা হারে ৯৯২ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব করে। এর বাইরে তারা ডিএসইকে বিনামূল্যে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, যার মূল্য উল্লেখ করা হয় ৩০৮ কোটি টাকা।
আরেকটি প্রস্তাবে প্রতিটি শেয়ারের জন্য ১৫ টাকা দরপ্রস্তাব করে ভারতভিত্তিক ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের একটি সাবসিডিয়ারি যার সাথে ছিল নাসডাক ও ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ নামে একটি দেশীয় কোম্পানি। ডিএসই কর্তৃপক্ষ দু’টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে চীনা কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবটি গ্রহণ করে যা পরবর্তীতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পায়।
তবে মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়ায় ডিএসইর প্রতিটি শেয়ারের ভ্যালু এক টাকা কমে যায়, যা চূড়ান্ত শেয়ার ক্রয় চুক্তিতে (এসপিএ) সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রির েেত্র শেয়ারপ্রতি ২১ টাকা হিসাবে ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা পাবে ডিএসই। আর এ টাকা থেকে ডিএসইর প্রতি সদস্য পাবেন প্রায় ৪ কোটি টাকা।





