ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের তীর ভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান আগামীকালও চলবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে বলে গতকাল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা নদী বন্দরের আওতাধীন কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ২৯ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক হাজার ১৯৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ১০ একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১০ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ১২ হাজার ৮৬৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ৫২১ দশমিক ৬২ একর তীরভূমি দখলমুক্ত করেছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত রোববার বিআইডব্লিউটিএ, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, পরিবেশ অধিদফতর, নৌপরিবহন অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সাথে এক যৌথ সভা করা হয়েছে।
সভায় নদীগুলোর দখল ও দূষণ প্রতিরোধকল্পে চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয়।
নদীতীর যেন অবৈধভাবে দখল হয়ে না যায় সে জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিআইডব্লিউটিএ নদীর সীমানা নির্ধারণ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গি নদী বন্দর এলাকায় ৯ হাজার ৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করেছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকায় চার হাজার ৬৩টি, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ হাজার ১১টি ও টঙ্গিতে ৫০৩ টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গি নদীবন্দর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৪৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে শিগশিগরই বৈঠক করা হবে। ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ১৩টি নিচু ব্রিজ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মিরপুর শাহ আলী মাজার গেট এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজধানীর মিরপুর-১ এর শাহ আলী মাজার গেট ও সনি সিনেমা হল এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অভিযানকালে ৩৫০টির অধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গা উদ্ধার করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে আসলামুল হক এমপি, ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো: জামাল মোস্তফা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু সুলতান এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা গুল্লাল সিংহ উপস্থিত ছিলেন।