মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দাখিলীয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে অস্ত্র মামলা থেকে এরফান সেলিমকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৫ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলীয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড (বরখাস্ত) কাউন্সিলর এরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ অব্যাহতি আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালতে অস্ত্র ও মাদক মামলায় এরফান সেলিমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ দুই মামলায় চার্জশিট দেয়। অতঃপর মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে এরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেন। তবে তার দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দু’টি আমলে গ্রহণ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ‘এরফান সেলিমের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলার ঘটনাস্থল ২৬ নম্বর চান সর্দার দাদাবাড়ী। এই বাসার মালিক বর্তমান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। মামলার আসামি এরফান সেলিম তার পুত্র। এরফান সেলিম বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর। মামলার বাদি এজাহার ও জব্দ তালিকায় মামলার ঘটনাস্থল এরফান সেলিমের ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ উল্লেখ করেন। তবে মামলাটি সরেজমিন তদন্তকালে সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, মামলার ঘটনাস্থলটি এরফান সেলিমের ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ নয়। সেটি ছিল একটি অতিথি কক্ষ।’ ‘এরফান সেলিমের পরিবার একটি রাজনৈতিক পরিবার হওয়ায় ওই অতিথিকক্ষে বিভিন্ন আগন্তুক অতিথি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য এবং সমাজে তার সম্মান ক্ষুণœ করাসহ সমাজে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে কে বা কারা মামলার জব্দকৃত পিস্তলটি অভিযুক্ত এরফান সেলিমের অতিথিকক্ষে রেখেছেন। এরফান সেলিমের এলাকায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন তথা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অংশগ্রহণের কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ ‘মামলার জব্দকৃত আলামত পিস্তলের বিষয়ে মামলার বাদি এজাহারে এবং জব্দ তালিকায় কার অস্ত্র এবং কার দেখানো মতে জব্দ হয়েছে তা উল্লেখ করেননি। অস্ত্র মামলার গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তে গৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযুক্ত এরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মামলার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় নাই বিধায় এরফান সেলিমকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।’
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিমের গাড়িটি তাকে ধাক্কা মারে। এরপর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে এরফানের সাথে থাকা অন্যরা একসাথে তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন। তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালও করেন তারা। এরপর ২৬ অক্টোবর সকালে এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মো: জাহিদুল মোল্লা, এ বি সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ আহমদ খান। ওই দিনই পুরান ঢাকার বড় কাটরায় এরফানের বাবা হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে এরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। এরফানের দেহরক্ষী মো: জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে দেন ছয় মাসের সাজা। এরপর ২৮ অক্টোবর র্যাব-৩ এর ডিএডি কাইয়ুম ইসলাম বাদি হয়ে চকবাজার থানায় এরফান সেলিম ও দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক চারটি মামলা করেন।
অস্ত্র মামলা থেকে এরফান সেলিমকে অব্যাহতি
আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দাখিলীয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে অস্ত্র মামলা থেকে এরফান সেলিমকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৫ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলীয় চূড়ান্ত...





