কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করে মামলা দায়ের করেন। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করার পর আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ বাদির জবানবন্দী গ্রহণ করেন। তবে এ মামলায় বাদি আবেদনে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করেছেন।
মামলায় কিশোর উল্লেখ করেন, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু এর আগে গত ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তার কাকরাইলের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান। কিন্তু তারা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে পারেননি। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যান। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে ২ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের আলাপ-আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শোনেন তিনি। তাকে একটি পুরনো ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে তারা। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর। এভাবে কয়েক দফা ২ থেকে ৪ মে পর্যন্ত শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পর তাকে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মোস্তাক আহমেদ কিশোরকে জানিয়েছিলেন, তাকে (কিশোর) বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়েছিল। ৬ মে তাদের রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আদালত কোনো আদেশ দেননি।