আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে কার্টুনিস্ট কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস মামলার নথি পর্যালোচনা করে এ আদেশ দেন। পিবিআইকে আগামী ১৫ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়। একই সাথে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা, মেডিসিন এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের আদেশ দেয়া হয়। কমিটিকে ২৪ কর্মঘণ্টার মধ্যে কিশোরের নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে কিশোর মামলাটি দায়ের করেন। আদালত তার জবানবন্দী গ্রহণ করে ১৪ মার্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলায় কিশোর উল্লেখ করেন, গত বছর ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ১৬-১৭ জন সাদা পোশাকধারী লোক তার কাকরাইলের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। কিন্তু তারা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ দেখাতে পারেননি। তারা বাসা থেকে মোবাইল, সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ডডিস্কও নিয়ে যান। পরে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে ২ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। তাদের আলাপ আলোচনায় একজনকে জসিম বলে ডাকতে শুনেন। সে সময় তাকে একটি পুরনো ও স্যাঁতসেঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একপর্যায়ে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গড়গড়িয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটানো হয়। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর। এভাবে কয়েক দফা শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পর তাকে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যায়। লেখক মুশতাক আহমেদ পরে কিশোরকে জানিয়েছিলেন, তাকে (কিশোর) বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়েছিল। ৬ মে তাদের রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়।





