চামড়া শিল্পে ঋণ নিয়ে দায় শোধ করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। ঋণ নবায়নে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেয়ারও সক্ষমতা ভেঙে গেছে অনেক উদ্যোক্তার। এ কারণে ঋণ নবায়নে আবেদনের সময় বারবার বাড়ানো হচ্ছে। সবশেষ গত ২২ জুন আবেদনের সময় তিন মাস বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়েও অনেকেই আবেদন করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল বুধবার আরো তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে এ শিল্পের উদ্যোক্তারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠন বা নবায়ন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, পুরান ঢাকা থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ নবায়ন করা যাবে। এ জন্য সুদের হারেও বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। বলা হয়, সুদহার আগে যাই থাকুক না কেন ঋণ নবায়ন করলে নতুন সুদহার হবে ৯ শতাংশ। আগে যেখানে ১৪ শতাংশ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের সুদহার ছিল তা গত বছরের এপ্রিল থেকে ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাভার ট্যানারি শিল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। এতে প্রতি ঘনফুট চামড়ার আন্তর্জাতিক মূল্য যেখানে ২ ডলার, সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে অর্ধেক দামে অর্থাৎ ১ ডলারে। এভাবে রফতানিতে মার খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। চামড়ার বর্জ্য শোধনাগারের জন্য সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। আর ট্যানারির কঠিন বর্জ্য পরিশোধনের কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এভাবে গত ১৯ বছরের প্রকল্প অসম্পূর্ণ রেখেই প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যয় ৬ গুণ বাড়িয়ে ১৭৫ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। অথচ ট্যানারি শিল্পনগরী গড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ট্যানারি নগরী নির্মাণ হলে প্রতি ঘনমিটার চামড়া যেখানে বিক্রি হতো ২ ডলারে, এখন তা বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে অর্থাৎ ১ ডলারে। এভাবেই তারা ব্যবসায়ে মার খাচ্ছেন। কমে যাচ্ছে চামড়ার রফতানি আয়। সিইটিপি কমিশনিং এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রিসোর্স জেনারেশনের ব্যবস্থা না হওয়ায় আমরা প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করেছি। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমে গেছে। এতে ন্যূনতম ডাউন পেমেন্ট দিয়েও পুরনো ঋণ নবায়ন করতে পারছেন না তারা।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা সঙ্কটে পড়ে গেছেন। রফতানি বাণিজ্যে ধীরগতিসহ অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এমনি পরিস্থিতিতে এককালীন ঋণ পরিশোধ করে ঋণ মুক্ত হওয়া অথবা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ নবায়নের জন্য আবেদন করার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর পরিপালনের জন্য গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনর্গঠন বা এক্সিটের জন্য আবেদনের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডিসেম্বর করা হলো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।








