‘আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশ চলবে’ বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের এমন বক্তব্যের পর জোর গুঞ্জন উঠেছে ডিসেম্বরে সরকার পতনের কঠোর কর্মসূচির। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিএনপির সংলাপ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে তাদের সমাবেশে জনস্রোত এ গুঞ্জনের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিসেম্বরকেন্দ্রিক সরকার পতনের আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে গতকাল বুধবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কোনো কোনো দলের নেতারা বলছেন বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের কথা। আবার কেউ বলছেন দিনক্ষণ ঠিক করে নয়, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।
এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা ২০১১ সাল থেকে বিএনপির সাথে আছি। আমরা অলরেডি বিএনপির সাথে সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালন করছি। ডিসেম্বরে বিএনপি যদি কোনো কঠোর কর্মসূচি দেয় তবে আমাদের শতভাগ সমর্থন থাকবে এবং আমরা সেই কর্মসূচিতে অংশ নিব।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ডিসেম্বরে বিএনপি যদি সরকার পতনের জন্য কোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করে তবে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে সেই কর্মসূচি সমর্থন করব ও বাস্তবায়নে কাজ করব।
গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এই সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্গান ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। তাই এই মুহূর্তে দিনক্ষণ ঠিক করে সরকার পতনের ঘোষণা দিতে পারছি না। আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের গণতন্ত্র মঞ্চ রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে যুগপৎ গণ আন্দোলনের চেষ্টা করছি।
আমাদের জোটের অনেক দলের সাথে বিএনপির আলোচনা হয়েছে। তারা হয়তো অনেক বিষয় একমত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বিএনপির কোনো আলোচনা হয়নি। তাই বিএনপির সাথে একসাথে আন্দোলনের বিষয় এখনো কিছু বলতে পারছি না।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিএনপির সাথে দু’বার সংলাপ করেছি। নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটাধিকারসহ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিএনপি জাতির উদ্দেশে কিছু কর্মসূচি দিবে। আমরা সেই কর্মসূচি যুগপৎভাবে পালনের অঙ্গীকার করেছি। আমরা বিগত সময় বিএনপির সাথে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
বাসদের (মার্কসবাদী) সভাপতি মাসুদ রানা নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা বাম গণতান্ত্রিক জোট সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ, কালো টাকা, পেশিশক্তিমুক্ত স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি। আমরা শুধুমাত্র আওয়ামী সরকারের পতন না, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২২ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে পদযাত্রা করব। একই সাথে জেলায় জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হবে। এ বছরের শেষের দিকে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী জেলায় জেলায় সমাবেশ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা চিন্তা করছি। আমরা একটি কার্যকর গণ আন্দোলনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনার কোনো চিন্তা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত বিএনপির সাথে আলোচনার কথা ভাবছি না। তবে গণতন্ত্র মঞ্চসহ অপর বাম রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। এ সময় বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে সরকারের বাধা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, খুলনা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে গণপরিবহন বন্ধের ঘটনা হাস্যকর।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ও বাম জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন অনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। ঠিক তেমনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি।





