সাত দফা দাবির ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছে তা নিয়ে সমমনা অনেক জোট ও দলের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের দাবি বিএনপির সাথে আলোচনা করে ৭ দফার খসড়া তৈরি হয়ে গেছে। মার্চের ১০-১৫ তারিখের মধ্যে ঘোষণা আকারে সেটি গণমাধ্যমকে জানানো হতে পারে বলে দাবি তাদের।


৭ দফার বিষয়ে জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। আমরাও ১৪ দফা দাবির ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেসব দাবিকে সামনে রেখেই আমরা যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছি। সময়ের প্রয়োজনে দফাগুলো কমিয়ে সমন্বয় করার মাধ্যমে ৭ দফার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে। আশা করি, মার্চের ১০-১৫ তারিখের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ দফার ঘোষণা দিতে পারব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, যুগপৎ আন্দোলনকে আরো ত্বরান্বিত করতে বিএনপির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ৭ দফা দাবির একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। আশা করি, খুব শিগগিরই সেটি ফাইনাল হয়ে যাবে।


এ দিকে ৭ দফার বিষয়ে জানতে চাইলে, ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, আমরা ৭ দফার বিষয়ে একটা আলোচনা শুনেছি। যেহেতু বিএনপির সাথে আমাদের এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি তাই আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১২ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির কাছে ৭ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এটা শুধু একটি প্রস্তাব, কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আর আমাদের সাথে বিএনপির এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।


তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির কাছে যে ৭ দফার প্রস্তাব দিয়েছে তার কয়েকটি দফার সাথে আমাদের ভিন্নমত রয়েছে। তাদের জাতীয় সরকারের প্রস্তাবের বিষয়টি নিয়ে আমরা ক্লিয়ার নই। আমরা মনে করি, জাতীয় সরকার হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলে। তখন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় সরকার হবে। নির্বাচনের আগে কোনো জাতীয় সরকার নয়। এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে তারা যে প্রস্তাব উল্লেখ করেছে তার সাথে আমরা ঐকমত্য নই। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার যে ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে আমরা মনে করি এগুলো এখন আলোচনার বিষয় নয়। এখন দফা হওয়া দরকার শুধু দুটো। ১) বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ২) নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ ছাড়া অন্য সব দফা আন্দোলনকে বিপথে পরিচালিত করবে।


এসব দফার বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, যার যার দলের আলাদা আলাদা দফা থাকতে পারে। যেমন আমাদের ৫ দফা আছে। তবে আমরা যখন একমঞ্চে আন্দোলনে আসব তখন এসব দফা কমিয়ে ১/২ দফায় আনতে হবে। জনগণ এত দফা বুঝবে না। দফা হতে হবে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি। অনেক দফা থাকলে মতানৈক্য তৈরি হবে, আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে। যার সুফল ভোগ করবে বর্তমান সরকার।
সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো দফা নেই। বিএনপির দফাগুলোই আমাদের দফা। তবে গণতন্ত্র মঞ্চ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে দফার প্রস্তাব দিয়েছে তার সাথে আমরা একমত নই। আমরা চাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেই লক্ষ্যে বিএনপির সব সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত।
৭ দফার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নয়া দিগন্তকে বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ ৭ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে; কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাষাগত ভিন্নতা থাকলেও সব দলের দফাগুলোর অর্থ এক। তাই আন্দোলনের স্বার্থে সবার সাথে আলোচনা করে শিগগিরই সম্মিলিতভাবে কিছু দফা কমিয়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।