বিএনপির সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখতে রেজা কিবরিয়াকে দল থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব ভিপি নুরুল হক নুর। গতকাল মঙ্গলবার নয়া দিগন্তের সাথে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রেজা কিবরিয়াকে দল থেকে কেন সরিয়ে দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে আছি। কিন্তু আমাদের দলের আহ্বায়ক হয়ে রেজা কিবরিয়া সাহেব বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের সাথে মিলে বিএনপিকে ভেঙে বি-বাড়িয়ার উকিল আব্দুস সাত্তারদের মতো নেতাদের নিয়ে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি ইতোমধ্যে তাদের সাথে মিলে অনেক স্থানে আসন বিক্রি করা শুরু করে দিয়েছেন। তার এই কর্মকাণ্ডে বিএনপির সাথে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, বিএনপির সাথে আমাদের সম্পর্কটা ক্লিয়ার করা দরকার ছিল। যেখানে বিএনপি শওকত মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে সেখানে কিবরিয়া সাহেব তার সাথে ও বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মাসুদ করিমদের সাথে মিলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
নুর আরো বলেন, বিএনপিসহ আমরা সব বিরোধী দল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করবে এমন কোনো ব্যক্তির সাথে আমরা থাকব না।
এ সময় গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে গণ অধিকার পরিষদের বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি রেজা কিবরিয়ার একক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নূর। গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য রেজা কিবরিয়া দলের মধ্যে যে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন তা একটি চক্রান্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ দিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কম্বোডিয়া থেকে মোবাইল ফোনে রেজা কিবরিয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমিই বাংলাদেশ গণ পরিষদের আহ্বায়ক আছি, আহ্বায়ক থাকব। আমার সাথে ৭৫ শতাংশ নেতাকর্মী আছে। সিনিয়ররা আমার সাথে আছেন।’
আগামী ২৫ জুন কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরবেন রেজা কিবরিয়া।
উল্লেখ্য, গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বের হয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর দেশের গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে দল থেকে সরিয়ে দেয় গণ অধিকার পরিষদ। রেজা কিবরিয়াকে সরিয়ে তার স্থানে এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো: রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে দলটি।
গত সোমবার (১৯ জুন) রাতে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিন রাতেই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামানের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই বৈঠক চলাকালে সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নুরুল হক নুর আনুষ্ঠানিকভাবে রেজা কিবরিয়ার সাথে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আনেন। এর আগে রোববার রাতে বৈঠকের পর রেজা কিবরিয়া গণমাধ্যমে নুরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।
২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা রেজা কিবরিয়া। তার আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ছেড়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে গণফোরামে যোগ দেন রেজা কিবরিয়া। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর আমার বাংলাদেশ পার্টির কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ২০২১ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যও পাঠ করেন রেজা কিবরিয়া।





