শত শত হামলা, মামলা ও নির্যাতনের পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূলের নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে পুনরায় মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। ইতোমধ্যে পুনর্গঠন করা হয়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে। গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে রাজধানীর দুই মহানগর শাখাসহ অন্য অঙ্গসংগঠনগুলোর বিষয়েও।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে নিয়মিত কর্মসূচির কথা ভাবছে দলটি। জনসম্পৃক্ত নানা কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে চাপে রাখতে চায় তারা। পাশাপাশি কূটনীতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সরকারের হামলা, মামলা নির্যাতন, জুলুম অত্যাচারের ফিরিস্তি তুলে ধরছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারাবন্দী নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্তির ব্যাপারেও হয়েছে তৎপর।
রাজনীতিতে থমথমে নীরবতা কাটিয়ে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। আনা হবে রদবদল। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঢাকার দুই মহানগরের গুরুত্ব সব থেকে বেশি। মূল টার্গেট রাজধানী। এখান থেকে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে চায় দলটি। তবে অতীত আন্দোলনে ঢাকার ভূমিকা সুখকর নয়। বারবারই রাজধানীতে আন্দোলন জমাতে ব্যর্থ হতে হয়েছে। সারা দেশের সাথে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে একাধিকবার। ভুল শুধরে নতুন করে নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে চায়। দলকে চাঙ্গা করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন।
২৮ অক্টোবরের পর থেকে লেজেগোবরে অবস্থা হয় রাজধানী ঢাকার। ধারাবাহিক হরতাল-অবরোধে মাঠে দেখা যায়নি দুই মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে। বেশির ভাগ নেতা কারাগারে থাকলেও যেসব নেতা বাইরে ছিলেন তারাও মাঠে নামেননি, ছিলেন আত্মগোপনে। তৃণমূল নেতাকর্মীর সাথে করেননি যোগাযোগ। আন্দোলনে সমন্বয়ও করেননি। কেউ কেউ আন্দোলনের চেয়ে অন্তকোন্দল, গ্রুপিং রাজনীতি নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত।
মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হকের গ্রেফতারের পর আন্দোলনে ভাটা পড়ে। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনারের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে। জানা যায়, নিজস্ব বলয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। নিজের পছন্দের নেতাকর্মীকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। আমানউল্লাহ আমান ও আমিনুলের নেতাকর্মীদের দূরে রাখারও অভিযোগ উঠেছে তার ওপরে। তবে কারামুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক। নিজ ইউনিটের আহত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের খোঁজ নিচ্ছেন। পৌঁছে দিচ্ছেন তারেক রহমানের বার্তা। দিচ্ছেন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। ঘোষিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে থাকছে মাঠে।
২৮ অক্টোবর সংঘর্ষের পর আত্মগোপনে চলে যান মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম। এরপর আর কোথাও দেখা যায়নি তাকে। তবে গ্রেফতার এড়িয়ে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই আত্মগোপনে আছেন বলে জানা যায়। মহানগর উত্তরের মতো ঠিক একই চিত্র মহানগর দক্ষিণে। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মজনু দীর্ঘদিন যাবৎ কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের উপস্থিতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম খুব গতিশীলই ছিল। তবে তার গ্রেফতারের পরে এখানেও তেমন কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। শুধু তানভীর আহমেদ রবিন, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও রবিউল ইসলাম রবির অনুসারীদের মহানগরের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। তবে রবিন কারামুক্ত হওয়ার পর গ্রেফতার ও আহত নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। একই কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনও।
বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, সরকার পতনের আন্দোলনে অনেক জায়গায় দুর্বলতা ধরা পড়েছে। অনেক জেলায় কার্যত কোনো আন্দোলনই গড়ে ওঠেনি। জেলার অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। এর মধ্যে ঢাকার দুই মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর জেলা ও মহানগর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার ওপর যতটুকু প্রত্যাশা ছিল তার ধারে কাছেও নেই সেগুলো।
পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত পারফম্যান্স পায়নি দলটি। তবে ছাত্রদলের দুর্বল অবস্থানের জন্য তৃণমূল থেকে দায়ী করা হয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলকে। কেউ নাম প্রকাশ করতে না চাইলেও একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রকিবুল ইসলাম বকুল বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ছাত্রদল তার নিজস্বতা হারিয়েছে। সংগঠনটির চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সব স্থানে গুরুত্ব কমেছে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। সব নেতাকর্মীর মাঝে বকুলকে ম্যানেজ করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব নেতাকর্মী বলেন, রকিবুল ইসলাম বকুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হওয়ার পর ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদকের চেয়ারের মাঝে নিজের জন্য একটি চেয়ার বসিয়েছেন, যা অতীতে কখনো কোনো ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক করেননি। বর্তমানে বিএনপিতে রকিবুল ইসলাম বকুলকে সমীহ করে চলতে হয় দলের সিনিয়র নেতাদেরও।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী ফ্যাসিস্ট সরকারের কারাগারে বন্দী। যারা বাইরে ছিলেন তারা রাজপথে ছিলেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। নেতাকর্মীরা এখন শেখ হাসিনার কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছে। মুক্তি পেয়ে কার্যালয়ে আসছে, কর্মসূচি পালন করছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, তারা মাঠে আছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় মহানগরের নেতাকর্মীরা এখন বেশি সক্রিয়।
মামলা ও নির্যাতনের পরও উজ্জীবিত নেতাকর্মী
ঢাকার দুই মহানগরে নজর বিএনপির
শত শত হামলা, মামলা ও নির্যাতনের পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূলের নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যর্থতার হতাশা...





