আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে আন্ডারওয়ার্ল্ডে এখন বিপুল সংখ্যক অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে রয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধার না করা পর্যন্ত মানুষের আতঙ্ক কাটবে না। এখন যেসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। ছিনতাই, ডাকাতি, অপরের জমি দখল, লুটপাটসহ নানা অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ এখন ভীত সন্ত্রস্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঠেকাতে সদ্য সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মাঠ পর্যায়ের অনেক ক্যাডারের হাতেই রয়েছে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। অপরদিকে, এই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে অনেক থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্পে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্রও লুট করে নিয়ে যায়। কী পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গেছে তার হিসাব এখনো জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে এর সংখ্যা নেহাতই কম নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্দোলনকে দমানোর জন্য ঢাকাসহ সারা দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয় অস্ত্র। আন্দোলনের সময় এই অস্ত্রহাতে অনেক সন্ত্রাসীকে দেখা গেছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছুড়ছে। সূত্র জানায়, বিদেশে পলাতক ছিল এমন সন্ত্রাসীকেও আন্দোলন দমানোর জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ইতালি থেকে আন্দোলনের সময় ঢাকায় আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী গোপীবাগের নাসির। এই নাসিরের নেতৃত্বেই মানিকনগর, গোপীবাগ এবং মতিঝিল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। জুরাইন, পোস্তগোলা এলাকায় দিগম্বর আলমের নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় আন্দোলনকারীদের ওপর। শীর্ষ সন্ত্রাসী ওমর ফারুক কচির বাহিনীও ওই এলাকায় সক্রিয় ছিল। যাত্রাবাড়ীর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপনের নেতৃত্বে ওই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। পল্টন মতিঝিল এলাকায় কাউন্সিলর আবুলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় আন্দোলনকারীদের ওপর। রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় কাউন্সিলর আনিছসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় আন্দোলনকারীদের ওপরে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় যে হামলা চালানো হয় তার পুরোটারই নেতৃত্ব দেয় সাবেক কাউন্সিলর রাজিব এবং কাউন্সিলর মো: হোসেন, কাউন্সিলর সাইদুল বেপারী। কাচপুর ব্রিজ থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত শামিম ওসমান ও তার ভাই সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। সূত্র জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের হাতে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার রাতেও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সব অস্ত্র দিয়েই এখন ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সারা দেশে ৪৫০টির বেশি থানা ও ৭০টি স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে বড় সংখ্যক পুলিশ সদস্যের। নয়া আইজিপি মো: ময়নুল ইসলাম বলেছেন, নিহত পুলিশের সংখ্যা জানা যায়নি। এই সময় ওইসব থানা থেকে লুট হয়েছে অনেক অস্ত্র। লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যাও এখনো জানা যায়নি।
পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, রাজধানীর উত্তরা-পূর্ব, ভাটারা, বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, বংশাল, পল্টন, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুসসালাম, মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর, খিলক্ষেত, শ্যামপুর, কদমতলী, কোতোয়ালি, লালবাগ, হাজারীবাগ, হাতিরঝিল, ধানমন্ডিসহ অনেক থানায় হামলা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশের ব্যবহৃত সরকারি আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে। এসব অস্ত্র এখন অপরাধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। লুটপাট, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ভয়ে মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। ডেমরার বাসিন্দা মাহমুদা জানান, আগে রাস্তায় লোকজন দেখলে মনে হতো আওয়ামী লীগ দাঁড়িয়ে আছে। এখন মনে হয় দুর্বৃত্তরা দাঁড়িয়ে আছে।





