আওয়ামী সরকারের পেটোয়া বাহিনী ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেই খ্যান্ত হয়নি। হতাহত ছাত্র-জনতার সুচিকিৎসায় যেসব ডাক্তার-নার্স উৎসাহ দেখিয়েছিলেন তাদেরকে গণহারে বদলি করা হয় ওই সময়। ২৪ জুলাই থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাদেরকে বদলি করা হয়। বদলিকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ১৬ জন শিক্ষকও রয়েছেন। বদলিকৃত কয়েকজন শিক্ষক ওই আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৪, ২৫ ও ২৮ জুলাই প্রকাশিত এসব প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পারসোনেল-১ শাখার উপসচিব দূর-রে-শাহ্ওয়াজ। বদলিকৃতদের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: রিজওয়ানা রহমান খান, সাইক্রিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: নুর আহমেদ গিয়াস উদ্দিন, স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: শহীদুল ইসলাম আকন, ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: নুসরাত সুলতানা ও সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: নাঈম দেওয়ান।
এর মধ্যে ডা: রিজওয়ানা রহমান খানকে গত ২৪ জুলাই সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়। বাকি চার জনকে গত ২৫ জুলাই বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপন বলছে, ডা: নুর আহমেদ গিয়াস উদ্দিনকে নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজ বদলি করা হয়েছে। সাইক্রিয়াট্রির এ চিকিৎসক সেখানে বদলি হয়েছেন কার্ডিওলজি অ্যান্ড সিসিইউ পদের বিপরীতে। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা: মো: নাঈম দেওয়ান বদলি হয়েছেন পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি পদের বিপরীতে।
ডা: মো: শহীদুল ইসলাম আকনকে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে। স্পাইন সার্জারি বিভাগের এ সহযোগী অধ্যাপককে বায়োকেমিস্ট্রি পদের বিপরীতে বদলি করা হয়েছে। আর ডা: নুসরাত সুলতানাকে বদলি করা হয়েছে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজে। ঢামেকের ভাইরোলজি বিভাগের এ সহযোগী অধ্যাপককে বদলি করা হয়েছে নেফ্রোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে। ২৮ জুলাই বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়েছেন এসব চিকিৎসক। বিধি অনুযায়ী, সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা রয়েছে।
বিপরীতে ঢামেকে বদলি হয়েছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা: উত্তম কর্মকার। ইউরোলজি বিভাগের এ চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে নিউরোট্রমা সার্জারি পদের বিপরীতে। এ ছাড়া ঢামেকে আরো বদলি হয়েছেন রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: গাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: রশিদুল হক ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: শরীফ মুশফেকুর রহমান। গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: অসীম কুমার সাহাকে নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের ফিজিওলজি পদের বিপরীতে বদলি করা হয়েছে। যশোর মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা: মো: আহসান হাবীবকে বদলি করা হয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের নিওনেটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: আ ন ম নূরুল হক ভূঁঞাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের নিউরো মেডিসিন পদের বিপরীতে বদলি করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: ত্রিদ্বীপ কান্তি বর্মণকে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ও গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: খন্দকার মো: সোহেল উল্লাহকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নওগাঁ মেডিক্যাল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ডা: মো: যোবায়ের আল আমীনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ধামাইরহাটের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা: মো: আমিনুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলার পত্নীতলার মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস) পদায়ন করা হয়েছে।
ডা: মো: শহীদুল ইসলাম আকন বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসায় যারা উৎসাহ দেখিয়েছেন, যথাযথভাবে আহতদের সেবা দিয়েছেন তাদেরকেই টার্গেট করা হয়। যারা বদলি হয়েছেন, এর মধ্যে অনেকেই ওই রোষে পড়ে বদলির শিকার হন। তিনি ওইসব বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।





