বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গত দুই দিন থেকে আমরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছি। ঢাকা মেডিক্যালের যে অবস্থা দেখেছি তাতে আমাদের মনে হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল ফিলিস্তিনের রাফাহ ক্যাম্পের রূপ ধারণ করেছে।
গতকাল শনিবার বিভিন্ন হাসপাতালে আন্দোলনে আহতদের পরিদর্শন শেষে বিকেল ৪টায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতে স্বৈরাচার সরকার স্বাস্থ্য
খাতের যেভাবে ধ্বংস সাধন করেছে তার পরিণতি আজ ঢাকা মেডিক্যালের বর্তমান অবস্থা। ঢাকা মেডিক্যালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবিরের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের বলেছেন, যদি রাজনৈতিক আধিপত্য না থাকে, যদি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য না থাকে তবে তারা ৯০ দিনের মধ্যে একটি জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্য খাত উপহার দিতে পারবেন। এজন্য সাধারণ ছাত্রজনতার যে ধরনের সহায়তা দরকার সাধারণ ছাত্র-জনতা পাশে থেকে সেভাবেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা প্রায় ১৫টি হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছি। পরিদর্শনে গিয়ে আমরা দেখেছি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারি হাসপাতালে রোগী বেশি রয়েছে। যার কারণে সরকারি হাসপাতালে রোগীরা উপযুক্ত চিকিৎসাটি পাচ্ছে না। আমরা লক্ষ্য করেছি সরকার আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা খরচ মওকুফ করেছে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে সে সুবিধা না থাকার কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক রোগীর ভিড় হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অর্থ অভাবের কারণে অস্বচ্ছল ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে পারছে না। আমরা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই ন্যূনতম ফিটা নিয়ে তারা যেন কোটা আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দেয়। এ পর্যন্ত যতজনের থেকে ফিস নেয়া হয়েছে তাদেরই ফিস ফেরত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তা ছাড়াও গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন এই সমন্বয়ক।





