বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা, লাশগুম ও লাশে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন থানায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২৮৭টি মামলা হয়েছে। এই সব মামলায় সাবেক আইজিপি থেকে শুরু করে পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত আসামি রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং অনেকেই গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে।
সবচেয়ে বেশি মামলায় আসামি হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকালীন পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, আন্দোলন চলাকালীন এসবির প্রধান মনিরুল ইসলাম, ওই সময়ের ঢাকার কমিশনার হাবিবুর রহমান, ওই সময়ের ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, ওই সময়ের র্যাব প্রধান হারুন অর রশিদ, অ্যাডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব সরকার, অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ঢাকার যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদি হাসান এবং আন্দোলন চলাকালীন ঢাকার ওয়ারী বিভাগের পুলিশের ডিসি ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে। সাবেক আইজিপি শহিদুল হকের বিরুদ্ধে রাজধানীর লালবাগ, উত্তরা পশ্চিম, নিউমার্কেট ও যাত্রাবাড়ী থানায় মোট মামলা হয়েছে সাতটি। এর মধ্যে ৬টিই হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে ৪টি। বাকি তিন থানায় তিনটি। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মাত্র একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি হত্যা মামলা। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও মামলা হয়েছে।

ডিএমপির সাবেক কশিনার খন্দকার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা প্রচেষ্টার মামলা হয়েছে। সাবেক এসপি চিফ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১১টি। যার মধ্যে সবগুলোতেই হত্যার ধারা রয়েছে। বিস্ফোরক আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালীন ঢাকার কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৩টি। এর সবগুলোই হলো হত্যার অভিযোগে। তার বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক সিআইডি প্রধান মো: আলী মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় খুনের অভিযোগ দু’টি মামলা হয়েছে। সাবেক র‌্যাব প্রধান হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানা, রামপুরা থানা, আদাবর থানা, ধানমন্ডি থানা ও মোহাম্মদপুর থানায় ৫টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা দায়ের হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি জামিল আহম্মেদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। সাবেক র‌্যাব প্রধান এম খুরশিদ হোসেনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তারের বিরুদ্ধে লালবাগ, নিউমার্কেট ও যাত্রাবাড়ী থানায় মোট ৬টি মামলা হয়েছে। সাবেক ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৮টি।

এর মধ্যে ৩৭টি হত্যা মামলা। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানায় হত্যার অভিযোগে দু’টি মামলা হয়েছে। ঢাকার ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট, রামপুরা ও আদাবর থানায় তিনটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় দু’টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। সাবেক ডিআইজি রিপন সরদারের বিরুদ্ধে রামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা, খালিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা, এডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মোট ২৭ টি মামলা হয়েছে। যার সবগুলোই হত্যা মামলা। এডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা, যুগ্ম কমিশনার এস.এম মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ৮ টি হত্যা মামলা, যুগ্ম কমিশনার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা, অতিরিক্ত ডিআইজি রশিদুল হকের বিরুদ্ধে যাত্রবাড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা, ঢাকার অতিরিক্ত ডিআইজি মারুফ হোসেন সরদারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, যুগ্ম কমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা, রমনার সাবেক ডিসি আশরাফ ইমামের বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা, ডিসি হেডকোয়ার্টার্স তানভির সালেহীন ইমনের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা, ডিসি মশিউরের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা, ডিসি ওয়ারী ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ৮ টি হত্যা মামলা, ডিসি ডিবি রাজিব আল মাসুদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, ডিসি ডিবি মাহফুজুল আল রাসেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা, সিটিটিসির ডিসি জাহিদ তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, ডিসি মতিঝিল হায়াতুল ইসলামের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় হত্যা মামলা, ডিসি উত্তরা আশরাফুল আজিমের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় দু’টি হত্যা মামলা, ডিসি হাফিজ আল ফারুকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, আজিমুল হকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, মাহাবুব উজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, লালবাগের সাবেক ডিসি জাফর হোসেনের বিরুদ্ধে দু’টি, এডিসি নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে একটি, গোবিন্দ চন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি, শাহিন শাহ মাহফুজের বিরুদ্ধে একটি, হাফিস আল আসাদের বিরুদ্ধে একটি, মুহিত কবির সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে একটি,

শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে একটি, হাসান আরাফাতের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা, এডিসি নাজমুলের বিরুদ্ধে একটি সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধে একটি, আফজাল হোসেন টুটুলের বিরুদ্ধে একটি, ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে একটি, রওশানুল হক সৈকতের বিরুদ্ধে একটি, শাফিক মোহাম্মদ শামীমের বিরুদ্ধে একটি, এসি রেফাতুল ইসলাম রিফাত, শহিদুল হক, মিজানুর রহমান এবং তানজিল আহমেদের বিরুদ্ধে একটি করে, এসি গোলাম রুহানীর বিরুদ্ধে ২টি, ওসি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে দু’টি, শাহীনুর রহমান শাহীনের বিরুদ্ধে একটি, লালবাগের ওসি খন্দকার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৪টি, আদাবরের ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে একটি, ওসি ফরমানের বিরুদ্ধে একটি, মাহফুজুল হক ভুইয়া, শিকদার মো: শামীম হোসেন, সেলিমুজ্জামান, ওসি মাজাহার, পলয় কুমার সাহা এবং ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা হয়েছে। রামপুরার ওসি মসিউরের বিরুদ্ধে দু’টি হত্যা মামলা, ইন্সপেক্টর নাজমুল, রনোজিত রায়, মেহেদী হাসান, ফাহেয়াত উদ্দিন রক্তিম এবং জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে একটি করে, আতিকুল হকের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের হয়। ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এবং আবুল বাসারের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা দায়ের হয়েছে। এসআই শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি ডিবির অমিতাভ দর্জির বিরুদ্ধে ৩টি, শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে একটি, কাউসার আহম্মদের খানের বিরুদ্ধে একটি, মামুন মাতব্বরের বিরুদ্ধে তিনটি, নুরে আলম মিয়ার বিরুদ্ধে একটি, মাসুম বিল্লার বিরুদ্ধে একটি, মো: রশিদের বিরুদ্ধে একটি, রাজিব চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। এ ছাড়া এএসআই মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, কনষ্টেবল মাহবুব আলম, আব্দুর রশীদ ও রমজান মোল্লার বিরুদ্ধে একটি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।