আওয়ামী লীগ আমলের ঠিকাদারদের কাছে জিম্মি খাদ্য অধিদফতর। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে একটি গাড়ির এক-দু’দিনের বেশি না লাগলেও খাদ্যশস্যবাহী গাড়ি এক অঞ্চল থেকে অন্য কোনো অঞ্চলে পৌঁছতে লেগে যায় ১৫-২০ দিন। আর এই যাত্রাপথে খাদ্যশস্য নিয়ে অনেক কারসাজি হয়। অনেক সময় নির্ধারিত মানের শস্যের পরিবর্তে গুদামে ঢুকছে নিম্নমানের খাদ্যশস্য। ওজনেও ঘটছে হেরফের।
গুদামজাত করার জন্য দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে খাদ্যশস্য আনা-নেয়ার জন্য এখনো যে ঠিকাদাররা রয়েছেন তা আওয়ামী সরকারের আমলের নিয়োগকৃত। বছরের পর বছর এসব ঠিকাদার খাদ্যশস্য পরিবহনের নামে নানা কারসাজি করে অনৈতিক উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদফতরাধীন বিভিন্ন স্থানে নৌ ও সড়কপথে চাল ও গম এক খাদ্য গুদাম হতে অন্য গুদামে চলাচল বা আনা-নেয়ার করার কাজে নিযুক্ত পরিবহন ঠিকাদারদের কাছে দীর্ঘ দিন ধরে জিম্মি খাদ্য বিভাগ। প্রেরণ কেন্দ্র থেকে খাদ্যশস্য বোঝাইকৃত পরিবহন চলতি পথে অনাকক্সিক্ষত ১৫ দিন ২০ দিন পর্যন্ত বিলম্ব, প্রাপক কেন্দ্রে আনলোডিংয়ে বিলম্ব ইত্যাদি ছাড়াও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পথে মানসম্পন্ন চাল ও গম পরিবর্তন করে নিম্নমানের চাল ও গম খাদ্য গুদামে ঢুকানোর অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য বিভাগে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার, বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার, অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার, বিভাগীয় নৌ-পরিবহন ঠিকাদার, খুলনা-বরিশাল বিভাগীয় নৌ-পরিবহন ঠিকাদার, ঢাকা, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ঠিকাদার, মেজর ক্যারিয়ার চট্টগ্রাম, মেজর ক্যারিয়ার খুলনা এ ছাড়া রেল পরিবহন ঠিকাদারও রয়েছে। এসব নৌ, সড়ক ও রেল পথের ঠিকাদাররা বিগত সরকারের আশীর্বাদে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে নিযুক্ত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বার্থ বিঘিœত করে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগকৃত পরিবহন ঠিকাদাররা একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মদদে এসব ঠিকাদার পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধাসহ বিভিন্ন অজুহাতে যেকোনো সময় পরিবহন ধর্মঘট ডাকলে বাজারে চাল-আটার দাম বেড়ে যাবে। এ ছাড়া খাদ্য বিভাগের পথ খাতে লাখ লাখ মেট্রিক টন চাল ও গম প্রতিবেদনে দেখানো হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পথখাতের খাদ্যশস্য আজীবন পথেই থাকে। তা আর মজুদে ফিরে আসে না। এ যাবৎকাল পথখাতের দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কেউ খুঁজে বের করেনি। এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদফতরের পরিচালক (চলাচল) মাহবুবুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পথে দীর্ঘ দিন লেগে যাওয়ার কিছু ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এভাবে করে থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
খাদ্য বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ধান, চাল, গম, আটা, চালের বস্তা, কীটনাশক ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহকারী মিলার, ডিলার বা ঠিকাদার ও কার্নেল মিলার ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়কালে তাদের আশীর্বাদে নিযুক্ত হয়েও এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় সুষ্ঠু খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মিলার, ডিলার ও ঠিকাদারদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে জনরোষে পড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন কেউবা বিদেশে চলে যাওয়ায় চুক্তির শর্তানুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছেন না। ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়া সরকারের এমপি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের ডিও এবং সুপারিশে এসব ঠিকাদারকে নিয়োগ দেয়া হয়। মিলাররা সক্ষমতা অনুযায়ী চাল উৎপাদন ও সরবরাহ না করলে বাজারে চালের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে নিযুক্ত ঠিকাদাররা অশুভ চক্রের মদদে সিন্ডিকেট করে যেকোনো সময় চাল-আটার বাজারদর অস্থিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আওয়ামী আমলের ঠিকাদারদের কাছে জিম্মি খাদ্য অধিদফতর
সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় হরিলুট – ২
আওয়ামী লীগ আমলের ঠিকাদারদের কাছে জিম্মি খাদ্য অধিদফতর। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে একটি গাড়ির এক-দু’দিনের বেশি না লাগলেও খাদ্যশস্যবাহী গাড়ি এক অঞ্চল...





