নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সুন্দরবন রক্ষায় রামপালসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রকল্প বন্ধের দাবিকে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা। আর এসব দাবিতে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে জনসংযোগ, প্রচার ও আঞ্চলিক সভার কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় কমিটি।
পাশাপাশি আগামী ১০ নভেম্বর নূর হোসেন দিবসে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে‘সুন্দরবনের জন্য বৈশ্বিক সংহতি’ দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শনিবার সকালে পুরানো পল্টনে অবস্থিত মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এতে আরো বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এ সময় টিপু বিশ্বাস, বজলুর রশীদ ফিরোজ, নজরুল ইসলাম, বহ্নি শিখা জামালী, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, শামসুজ্জোহা, নাসিরউদ্দিন নসু, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়, পরিবেশ সমীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের নিকট শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুইটি দায়মুক্তি আইন রাহুর মতো চেপে আছে। এর একটি ২০১০ সালে প্রথমে ৪ বছরের জন্য বহাল করা হয়, এরপর তার মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গৃহিত সকল প্রকল্প দরপত্র ছাড়া, বিদ্যমান আইনী বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে বাস্তবায়ন করার এখতিয়ার রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক আদালতের দারস্থ হতে পারবে না। এই দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই একের পর এক অসম্ভব, ব্যয়বহুল ও ক্ষতিকর প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।
তিনি নির্বাচনের তফসিলের আগে এসব দায়মুক্তি আইন বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে দায়মুক্তি আইন বাতিল করে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবি যুক্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফুলবাড়ীতে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সরকার দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থে জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। একমাত্র গণআন্দোলনই জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় সরকারকে বাধ্য করতে পারে।
সচেতন মানুষকে এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।









