সুন্দরবনের কটকা পর্যটনকেন্দ্রের নদীতে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে একদল বনদস্যু। তবে বনরক্ষীদের গুলির মুখে পিছু হটে সাগরের দিকে পালিয়ে যায় দস্যুরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
পূর্ব সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে একদল বনদস্যু। তবে বনরক্ষীদের প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। ঘটনাটি শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্রের নদীতে।
কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভির হাসান ইমরান মোবাইল ফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একদল বনদস্যু ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলারে করে রাত ৯টার দিকে কটকা নদীতে নোঙর করা পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে এগিয়ে আসছিল।
দস্যুদের গতিবিধি টের পেয়ে কটকার মোহনায় অবস্থানরত জেলেরা মোবাইলফোনে বিষয়টি বনরক্ষীদের জানান। খবর পেয়ে বনরক্ষীরা দ্রুত টহল বোট নিয়ে কটকা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। এ সময় দস্যুরা পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে বনরক্ষীরা তাদের লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির মুখে দস্যুরা ট্রলারের গতিপথ ঘুরিয়ে দ্রুত সাগরের দিকে চলে যায়।
কটকা নদীতে নোঙর করা পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’-এর মাস্টার মো. শামিম আলম জানান, জাহাজের দিকে দস্যুরা এগিয়ে আসছে—বনরক্ষীরা আগেই তাদের সতর্ক করেছিলেন। বর্তমানে কটকায় ‘দি ওয়েভ-২’ ও ‘আরাল সি’ নামে দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। দুটি জাহাজে দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ৯৭ জন পর্যটক রয়েছেন।
শামিম আলম বলেন, বনরক্ষীদের দ্রুত ও সাহসী ভূমিকার কারণে পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে দস্যুদের আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরীও পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনে এর আগে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। এটিই ছিল পর্যটকবাহী জাহাজে দস্যুদের প্রথম হামলার চেষ্টা।
ডিএফও আরও বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। দস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। দস্যুদের দমনে সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের রাতের টহল জোরদার করা প্রয়োজন।











