বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচনের আগে খুনিদের বিচার দৃশ্যমান হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এই দু’টি কাজ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নিবে না। যারা দেশকে ভালবাসে তারা দেশ ছেড়ে পালায় না, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে না। পতিত স্বৈরাচারগোষ্ঠী সবই করেছে। ফ্যাসিবাদীদের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ এখনো বিদায় নেয় নাই। এখনো মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, ভয়াবহ চাঁদাবাজিতে মানুষ অতিষ্ঠ। চাঁদাবাজ দখলদারদের বিরুদ্ধে একসাথে এগিয়ে যাবো আমরা।

আজ শনিবার (১৯ এপ্রিল) লালমনিরহাট জেলা শহরের কালেক্টর মাঠে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জেলার পরিত্যক্ত বিমানবন্দ, স্থলবন্দর ও মহাসড়ক ফোরলেন, কারাবন্দী জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম মুক্তি, দলের নিবন্ধন ফেরত, সিমান্তে হত্যা বন্ধ, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচার বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র নির্মানের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন সহ ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লালমনিরহাট জেলা শাখার আয়োজন বিশাল জনসভায় এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, লালমনিরহাটের জনসভায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য ইতোপূর্বে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ছিলেন, তাদের কারো বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মহিলাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আগামীতে আমরা এমন দেশ চাই যেন কোনো প্রতিষ্ঠানে পাহারা দেয়া না লাগে। সংখ্যালঘু বলে যারা বেশি মায়াকান্না করেছে তারাই সবচেয়ে বেশি অপকর্ম করেছে। যারা এদেশে জন্মগ্রহণ করেছে সবাই এদেশের গর্বিত নাগরিক, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই।

বাংলাদেশের বুক থেকে চিরতরে ফ্যাসিবাদ নির্মূল দেখতে চাই। এটিএম আজহার কবে মুক্তি পাবে জনগণ তা জানতে চায়, এ বিষয়ে জনগণ কোনো ধানাইপানাই কথা শুনতে চায় না।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা আধিপত্যবাধের কালো ছায়া আর দেখতে চাই না। ভারতের সাথে প্রতিবেশী হিসেবে সমতার ভিত্তিতে বসবাস করতে চাই, সেই পরিবেশ ভারতকেই নিশ্চিত করতে হবে, আমাদের ন্যায্য অধিকারগুলো দিতে হবে। কোনো ধরনের গড়িমসি না করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবতায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, লালমনিরহাটে কৃষিনির্ভর শিল্পকারখানা করে তুলতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচনের আগে খুনিদের বিচার দৃশ্যমান হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এই দু’টি কাজ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নিবে না। পেশিশক্তির নির্বাচন জনগণ দেখতে চায় না। নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে আর খণ্ড করতে দেয়া হবে না। আগামী দিনে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।

জামায়াতে ইসলামী লালমনিরহাট জেলা শাখার আমির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য অ্যাডভোকেট আবু তাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা, মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম রব্বানী, এটিএম আজম খাঁন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের লালমনিরহাট জেলার সভাপতি পুস্বাজিৎ বর্মা।

আরো বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট-১) আসনের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, কালিগঞ্জ-আদিতমারী (লালমনিরহাট-২) আসনের জেলা জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু, সদর (লালমনিরহাট-৩) আসনের প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা হারুন-অর রশিদ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইমলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা।