অনলাইনে কনটেন্ট-সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আরোপিত জরিমানা বাতিলের বিরুদ্ধে ইলন মাস্ক ও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের করা মামলায় তাদের পক্ষ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইইউ’র জেনারেল কোর্টের কাছে এ মামলায় হস্তক্ষেপের অনুমতি চেয়েছে। 

মাস্ক ও পূর্বে টুইটার নামে খ্যাত এক্স ইইউ’র গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আইন অনুযায়ী ব্রাসেলসের আরোপ করা ১২ কোটি ইউরো (১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার) জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মাস্ক ও এক্সের জরিমানা বাতিলের দাবির পক্ষে তারা ইইউ’র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ওই সিদ্ধান্ত ছিল ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর আওতায় আরোপিত প্রথম জরিমানা।

২০২৪ সালে পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ডিএসএ অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট মোকাবেলায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে আরো স্বচ্ছ হতে হয়।

আইন লঙ্ঘন করলে কোনো কোম্পানির বৈশ্বিক বার্ষিক মোট আয় থেকে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।

ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে আইনটি এখন বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প এটিকে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইইউ অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশন যথাযথ এখতিয়ার ছাড়াই তাদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এমন মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর প্রয়োগের চেষ্টা করেছে, যারা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে উপস্থিত বা কার্যক্রম পরিচালনা করে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমেরিকার উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ইউরোপীয় কমিশনের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াকে আমরা মেনে নেব না।’

স্বচ্ছতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন, অর্থের বিনিময়ে দেয়া নীল টিকচিহ্ন ব্যবস্থায় বিভ্রান্তিকর নকশা ব্যবহার এবং গবেষকদের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার না দেয়ার অভিযোগে কমিশন এক্সকে জরিমানা করে।

ট্রাম্প এই জরিমানাকে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কয়েক সপ্তাহ পর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সাবেক ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রেতোঁসহ পাঁচজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

ইইউতে এক্সের সদর দফতর আয়ারল্যান্ডে। প্রতিষ্ঠানটি গত ফেব্রুয়ারিতে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। তারা দাবি করে, জরিমানাটি তাদের ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এক্সও পদক্ষেপ নিয়েছে।

জুলাইয়ে কমিশন এক্সের লঙ্ঘনগুলো সংশোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্যের ক্ষেত্রে গবেষকদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টি রয়েছে। এসব পরিবর্তন স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হবে।

এর আগেই এক্স তাদের নীল টিকচিহ্নের নাম ‘ভেরিফায়েড’ থেকে পরিবর্তন করে ‘প্রিমিয়াম’ করেছে।

সূত্র : বাসস