রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির জেরে সম্প্রতি ভারতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। তবে সোমবার ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর যখন তারা রাশিয়া থেকে আমদানি শুরু করেছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ’সক্রিয়ভাবে এই ধরনের আমদানিকে উৎসাহিত করেছিল’। অপরিশোধিত তেল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতীয় পরিশোধকদের এককভাবে বাদ দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানেরও বিরোধিতা করেছে মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে পরিবর্তন আসে, তা ভারতের আমদানিকে বাধ্যতামূলক করে তোলে। এমনকি ভারতের সমালোচনাকারী দেশগুলো নিজেরাই ‘রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যে লিপ্ত’।

রাশিয়ার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর বাণিজ্য চুক্তির তালিকা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে রাশিয়ার সাথে ছয় হাজার ৭৫০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য করেছে। তার আগের বছর ২০২৩ সালে করেছে এক হাজার ৭২০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ বাণিজ্য। ভারত রাশিয়ার সাথে সারা বছর যে বাণিজ্য করে, তার চেয়ে এই পরিমাণ অনেক বেশি।’

ইউরোপ-রাশিয়া বাণিজ্যের মধ্যে কেবল জ্বালানি নয়, বরং সার, খনির পণ্য, রাসায়নিক, লোহা ও ইস্পাত এবং যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তার পারমাণবিক শিল্পের জন্য ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, বৈদ্যুতিক যানবাহনে ব্যবহারের জন্য প্যালাডিয়ামসহ সার ও অন্যান্য রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত রেখেছে।’

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণকে ন্যায্য মূল্যে তেল সরবরাহ করাকে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই স্বার্থ রক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ভারত।’

সূত্র : এনডিটিভি