ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরসহ সব সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি কমাতে একমত হয়েছে দেশ দু’টি। সোমবার দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের প্রধানদের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।

মঙ্গলবার (১৩ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ডিজিএমও ও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লাহ এবং ভারতের ডিজিএমও ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বিকেল সাড়ে ৪টায় একটি বৈঠক করেন যা প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠকটি দুপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা বিকেল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। কিছু সূত্রের মতে, বৈঠকের অ্যাজেন্ডা নিয়ে মতবিরোধের কারণে বিলম্ব হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি উভয় পক্ষ সীমান্ত এলাকায় সৈন্য উপস্থিতি হ্রাস করার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। একে যুদ্ধবিরতির পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে এ সম্পর্কে কোনো বিবৃতি দেয়নি ভারত কিংবা পাকিস্তান কেউই।

তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত জম্মু-কাশ্মির ও ভারত-পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্স। সীমান্তে সেনাবাহিনীও থাকবে, কিন্তু সংঘাত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে সামনে আসবে না তারা।

আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তরেখার এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো হেলিকপ্টার ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিমান প্রবেশ করবে না।

পেহেলগাম হামলাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার জেরে গত ৭ মে থেকে ১০মে পর্যন্ত সংঘাত চলার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম ভারত-পাকিস্তানের সামরিক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশেল ডিজিএমও পর্যায়ে আবারো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।