অনেক মা-বাবা সন্তানের বৈধ আয় রোজগারের সামর্থ্যরে বাইরে তার কাছে অনেক কিছু দাবি করে। এমন কিছু দাবি করা অনুচিত, যাতে সে অবৈধ টাকা উপার্জনের দিকে পা বাড়ায়।
এক সন্তানের ওপর বাকি সন্তানদের জীবন-জীবিকার দায় চাপিয়ে দেন অনেক বাবা-মা। এটা খুবই অমানবিক। এমন কোনো অধিকার বাবা-মায়ের নেই। মনে রাখবেন, এমনটা করলে আপনার ভালোর পরিবর্তে খারাপই বেশি হবে এবং পরিবার ধ্বংস হবে। এ ক্ষেত্রে বাকি সন্তানেরা চেষ্টা পরিশ্রম বাদ দিয়ে অলস হয়ে সংশ্লিষ্ট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। পরে দিন শেষে আশানুরূপ কিছু না পেলে ভাইদের মাঝে অসহিষ্ণুতা ও হানাহানি সৃষ্টি হয়।
আপনাদের সন্তান আপনাদের চাইতে তার শ্বশুর-শাশুড়িকে বা অন্য কোনো কাউকে বেশি শুভাকাক্সক্ষী মনে করলে আপনারা যেমন কষ্ট পান, তেমনি সন্তানের চেয়ে অন্য কাউকে বেশি শুভাকাক্সক্ষী মনে করলে সন্তানেরাও তেমনি কষ্ট পায়। অনেক বাবা মা চান, তাদের এমবিবিএস ডাক্তার সন্তান যেন, গ্রামের ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পরামর্শ/মর্জি মোতাবেক ডাক্তারি করেন। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানই আপনার সর্বোচ্চ শুভাকাক্সক্ষী। অনেকে শুভাকাক্সক্ষীর বেশে আপনাদের কাছে আসবে। তাদের টার্গেট আপনার সন্তানের উন্নতির পথ রুদ্ধ করা এবং সন্তানদের মাঝে বিদ্বেষ ও হানাহানি ছড়ানো।
প্রত্যেক সন্তানই এক একটা মানুষ। আর প্রত্যেক মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতার একটা সীমা আছে। তার আয়ুও সীমাবদ্ধ। আপনার কোনো এক বা একাধিক সন্তান চাকরি পেলে তার কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করবেন না, যাতে সে হারাম আয় করতে বাধ্য হয়। বরং বলুন, ‘আমরা প্রয়োজনে কম খাব কম পোশাক পরব, তবু সন্তান যেন কোনো অবৈধ আয় না করে।’ বরং লক্ষ করুন সে যে বেতন পায়, তা দিয়ে সে নিজে সেই শহরে ঠিকমতো চলতে পারে কি না। অনেক বাবা-মা আছেন, যারা চায় চাকরি পাওয়ার পর তার সন্তান প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই যেন একটি দালান বানায়। এটা অন্যায় মানসিকতা।
অনেক পিতা-মাতা আছেন যারা নিজেদের সন্তানদের মধ্যে হাতে ধরেই বৈষম্য করেন। তারা মনে করেন, এক সন্তান চাকরি পেলেই বাকিদের রিজিকের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কিন্তু কিভাবে হবে, সেটা তারা প্রকাশ্যে আলোচনা করতে নারাজ। এ ক্ষেত্রে তারা মূলত ঘুষ এবং রাষ্ট্রীয় বা কোম্পানির সম্পদ নানাভাবে লুট করাটাকেই উপায় মনে করে। বরং সব সন্তানকে সব সময় নিজ কষ্টে পরিশ্রমের মাধ্যমে যোগ্যতা/দক্ষতা তৈরি করে স্বাবলম্বী হওয়ার উৎসাহ দিতে হবে। অনেক পিতা-মাতা চান, তাদের ছেলে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক এনে প্রতিষ্ঠিত হোক। এটাও অমানবিক!
সবাই একতরফাভাবে পিতা-মাতার গুণগান করে। পিতা-মাতার অন্যায় বিষয়গুলোকে কেউই তুলে ধরতে চায় না! একতরফা কোনো কিছুই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। হ
লেখক : চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
অনেক মা-বাবা সন্তানের বৈধ আয় রোজগারের সামর্থ্যরে বাইরে তার কাছে অনেক কিছু দাবি করে। এমন কিছু দাবি করা অনুচিত, যাতে সে অবৈধ টাকা উপার্জনের দিকে...
