ভারতের মধ্যপ্রদেশ। এ অঞ্চলের একটি শহরের নাম ভুপাল। অতি প্রাচীন শহর। ছোট ছোট পাহাড়, টিলা ও হ্রদের আশপাশে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকান ঘর, গুদাম ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। শহরের মাঝখানটায় ঘিঞ্জি এক বাজার। বাজারের ভিতরটা বেশ সঙ্কীর্ণ। পুরাতন বাজারের অলি-গলিপথে রয়েছে খুপড়ি দোকান ও গুদাম ঘর, রয়েছে মন্দির ও মসজিদ। এখানে হয়তো কাঁসার ধ্বনি বাজছে, ওখানে শোনা যাচ্ছে মসজিদে আজানের সুর। এখানকার অধিবাসীরাও বেশ পুরনো। যুগ যুগ ধরে তাদেও চৌদ্দ পুরুষ বসবাস করে আসছে এখানে।
এই মার্কেটের ভেতরে রয়েছে চার সওদাগরের একটি অংশীদারি গুদাম ঘর। চাল, ডাল, গম, ছোলা, মসুর ও অন্যান্য শস্যদানা মজুদ করেন তারা গুদাম ঘরে। গ্রামে ফসল তোলার মওসুমে কৃষকদের কাছ থেকে তারা কম দামে শস্য কিনে গুদামে রেখে দেন। শেষ মওসুমে যখন শস্যের দাম বেড়ে যায়, তখন তারা চড়া মূল্যে বিক্রি করে দেন সেসব শস্যদানা। এতে প্রচুর লাভ হয় তাদের। তাই, এলাকার সবাই এই চার সওদাগরকে চেনে। সমীহ করে চলে।
এভাবে দিনকাল ভালোই চলছিল তাদের। বিপত্তি ঘটে একদিন। চার সওদাগর এক সকালে এসে দেখেন, তাদের গুদাম ঘরের সব শস্যদানা খেয়ে ফতুর করে ফেলেছে ইঁদুর। তারা দেখেন ঘরের মেঝেতে আলো আঁধারে ইঁদুরের ছোটাছুটি। (চলবে)