ছয়.
চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলতেই সে বুঝতে পারে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। ধোঁয়ায় ভরে গেছে গোটা ঘর। আর ভরে আছে উৎকট গন্ধে। দুধ পোড়ার বিশ্রী ঝাঁঝালো উৎকট গন্ধে রিয়াজের দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। সে দৌড়ে রান্না ঘরে ঢোকে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দুধ পুড়ে কয়লা। হাঁড়িতে একফোঁটা দুধ আর অবশিষ্ট নেই। সবচেয়ে বড় কথা হাঁড়ির তলাটাও পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। হাত ঘুরিয়ে তাড়াতাড়ি গ্যাসের চুলাটা অফ করে দেয়। নেকড়া দিয়ে ধরে সাবধানে দুধের খালি পোড়া হাঁড়িটা নিচে নামায়। হাঁড়িটা এত বেশি তেতে আছে যে এত সাবধানতার পরও কোনো আঙুলের সাথে একটু খানি লাগতেই মাংসে ফোস্কা পড়ে লাল হয়ে যায়। সে হাত পোড়া উপেক্ষা করে গরম হাঁড়িটা নিয়ে টাপের পানি ছেড়ে দিয়ে তার নিচে রাখে। পানি পড়ার সাথে সাথে হাঁড়ি দিয়ে ভলকে ভলকে ধোঁয়া বের হয়ে রান্নাঘর ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। সে উঠে দাঁড়িয়ে রান্নাঘরের জানালাটা খুলে দেয়। দরজাটা খুলতে সাহস হয় না তার। নিচতলার ভাড়াটেরা জেনে যাবে তাহলে। এমনিতে যে পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে তাতে গোটা দুনিয়ায় কারো জানতে বাকি নেই বোধ হয়। গন্ধ চাপা দেয়ার কোনো কৌশল আছে বলে তো মনে হয় না।
যা কপালে আছে তাই হবে এমন একটা ভাব নিয়ে সে দুধপোড়া হাঁড়িটা পরিষ্কার করতে উবু হয়ে বসে। মার তো খেতেই হবে তবে হাঁড়িটা যদি কষ্ট করে হলেও পরিষ্কার চকচকে করে রাখা যায় তাহলে হয়তো শুধু দুধের কারণে মার এক প্রস্থ হবে। হাঁড়ি পোড়ার মারটা আর খেতে হবে না। আর মামী সাধের হাঁড়ি যদি এসে পোড়া পায় তাহলে আজ আর আস্ত রাখবে না। খুন্তিটুন্তি গরম করে গায়ে ঠেসে ধরা অসম্ভব কিছু না।
সে ঘষে ঘষে হাঁড়ির পোড়া কালো তুলতে তুলতে আড়চোখে একবার খুন্তির দিকে তাকায়। হাতের কাছে খুন্তিটা রাখা যাবে না। লোহার জিনিস দিয়ে মারলে লাগে বেশি। আর ব্যথাও থাকে অনেক দিন। অনেক সময় কাটা জায়গায় পচন ধরে ঘা হয়ে যায়। সেই তুলনায় কাঠের জিনিস অনেক নিরাপদ। মামির যখন রাগ সহনীয় পর্য়ায়ে থাকে তখন কাঠের ডাল-ঘোটনাটাই নেমে আসে তার ওপর।
(চলবে)