বিশ.

কোনো এক বিচিত্র কারণে সে তিনতলার পিছলা ছাদ থেকে গড়িয়ে নিচে কনক্রিটের রাস্তায় পড়ে না। তার যেন মনে হয় সে উড়ে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে ডানায় ভেসে। তবে ডানা তার না। অন্য কারোর ডানায় ভেসে। বৃষ্টি শেষের ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়ায় আধশুকনো কাপড় চোপড়গুলো জড়িয়ে ধরে দোলনায় দোলা লেগে ঘুমিয়ে পড়ে।
যখন তার ঘুম ভাঙে তখনও তার মনে হয় সে যেন ভেসে চলছে। সে ভালোমতো চোখ মেলে চোখ কচলে দেখতে চায়। কিন্তু তার হাত শক্তভাবে কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে থাকার কারণে সে চোখ কচলাতে পারে না। তবে ঠিকই তার ঘুম চটে যায়।
সে অনুভব করে তুলতুলে তুলোর মতো নরম একগাদা লোমের ভিতর দিয়ে সে দুহাতে শক্ত কিছু একটা চেপে ধরে আছে, যে শক্ত জিনিসটার উপরেই তুলোর মতো তুলতুলে নরম।
সে চোখ মেলে দেখে রাজহাঁসের ডানার মতো তবে অনেক বিশাল দু’ডানার ফাঁকে ঝুলে আছে। তার দু’হাত ডানা আঁকড়ে ধরা। তবে দু’ডানাই স্থিরভাবে বাতাসে ভাসছে। আর তাকে নিয়ে ভাসতে থাকা সামনের অংশটা ধীরে ধীরে গাছপালাঘেরা জঙ্গলের দিকে সোজাসুজি নেমে যাচ্ছে।
ব্যাপার কী, সে একটু একটু করে বুঝতে পারে। পা পিছলানোর সময় দেখা সেই কাশফুলের মতো ধবধবে সাদা মেয়েটা, পাখা যখন আছে পরীটরি হবে হয়তো, তাকে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে কোথাও নিয়ে চলছে।
রিয়াজের ছোট্ট জীবনটা নিয়ে ইতিমধ্যে এত টানাহেঁচড়া হয়ে গেছে যে, সে খুব একটা বিস্মিত হয় না। তাছাড়া ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে পরী জিনিসটা খুব একটা অপরিচিত নয়। কাজেই একটা পরী এসে তাদের পিঠে করে উড়িয়ে নিয়ে গেলে তারা খুব একটা আপত্তি করে না। বরং মজা পায়। দেখাই যাক না কি হয়!
চোখ মেলে চেয়ে থাকার জন্যই সে পড়ে যাওয়ার ভয়ে পরীর দু’ডানার উপরের দিকটা আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। তার ভয় করতে থাকে আবার না ডানা ছিঁড়ে যায়।
(চলবে)