তেইশ.

সে অবাক গলায় বলায় বলে, ‘দুধ পেলে কোথায়?’ যদিও জানে প্রশ্নটা করা ঠিক হয়নি। পরীদের কাছে এসব কোনো সমস্যা নাকি। ওরা তো সব করতে পারে।
সোনালি পরী হাসিমুখেই বলে ‘দুধ আনাটা কোনো সমস্যা হয়নি। তোমাদের দুধ ওয়ালা তখন পাশের বাড়িতে দুধ দিচ্ছিল। আমি এই ফাঁকে ওর দুধের হাঁড়ি থেকে প্রয়োজন মতো তুলে এনেছি।’
সে চোখ কপালে তুলে বলে, ‘তার মানে চুরি করে...’
সোনালি পরী একটু ইতস্তত করে বলে, ‘তোমরা ওটাকে তাহলে চুরি বলো। আমাদের রাজ্যে ওসব নেই। যার যেটা আছে আর আরেকজনের যদি সেটা না থাকে তাহলে সে তার কাছ থেকে ওটা প্রয়োজন মতো নিতে পারে। যদিও তার দরকার হয় না। তাতে চুরি হয় না। আমি সেটাই ভেবেছিলাম। তাছাড়া তোমাদের দুধওয়ালা লোকটা মহাবদমায়েশ। যেটুকু দুধ আনে তার অর্ধেকটাই পানি মেশানো। ওরকম লোকের দুধ চুরি করে নিলেও কিছু হয় না বলে জানতাম...’
রিয়াজ বয়স্ক লোকের মতো মাথা নাড়ে ‘তা ঠিকই। কিন্তু তুমি আমার টেলিভিশনের নবটা ঠিক করে দাওনি কেন?’ সে এমনভাবে বলে যেন সে যা ক্ষতি করবে তা ঠিকঠাক করার দায়িত্ব পরীর।
‘ওইটা করতে গিয়েই তো ফ্যাকড়ায় পড়ে গেলাম, বুঝলে রিয়াজ। আমি অনেক চেষ্টা করে দেখলাম। ওটা লাগেই না। দুধের মতো ওটা কারো কাছ থেকে আনতেও পারলাম না। কাদের কাছ থেকে আনতে হয় তাও জানি না। তোমার দুরবস্থার কথা ভেবে মনটন খারাপ হয়ে গেল। ওই জন্য তো তোমার সাথে সাথে থেকে গেলাম।’
রিয়াজ অবাক হয়ে বলল, ‘তুমি আমার নাম জানো?’
‘জানব না কেন? তোমার মামা-মামী বাবু সবাই তো তোমাকে ওই নামেই ডাকছিল। আজ সারা দিনই তো তোমাদের বাসাতে কাটালাম। এজন্য খাওয়াও হয়নি।’
রিয়াজ একটু লজ্জিত হয়ে বলল, ‘তোমরা কী খাও। ভাত মাছ মাংস?’
(চলবে)