সাতাশ.

যা শুনে রিয়াজের ভয় কেটে যায়। মামীর কড়া কথা শোনায় অভ্যস্ত রিয়াজ একটু মিষ্টি কথা শুনলেই আবেগে গলে পড়ে। সে মনে সাহস ফিরে পায়। বুড়িটা বোধ হয় তার কোনো ক্ষতি করবে না।
রিয়াজ একটু ইতস্তত করে বলে ‘আমি নিজের ইচ্ছেয় এখানে, এই বনে আসিনি। তিতলী পরী আমাকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে।’
তিতলী পরীর কথা শুনে বুড়ির অজস্র বলিরেখা মুখে হাসি ফুটে ওঠে। বুড়ি হাসি হাসি মুখে বলল ‘কোনো ভয় নেই বাছা। তিতলী খুব ভালো পরী। সে ভালো পরীরাজ্য নজীবীন রাজ্যের রাজকন্যা। সে তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। নজীবীন রাজ্যের পরীরা কারোর কোনো ক্ষতি করে না। তারা সবার ভালো করে। তোমারও ভালো করবে।’
রিয়াজ সাহসে ভর করে বলে ‘তুমি কে?’ রিয়াজের কথা বলার সিস্টেমই ওরকম। সে সবাইকে তুমি করেই বলে। কাউকে আপনি করে বলতে পারে না। ঢাকায় আসার পর মামী ওর সবাইকে তুমি বলার প্রবণতা দেখে অনেক চেষ্টা চরিত্র করল আপনি বলানোর। কোনো লাভ হলো না। সে পরিচিত অপরিচিত ছোট বড় সবাইকে তুমি বলে ডেকে যেতে লাগল। শেষে মামী হাল ছেড়ে দেয়। ইংরেজি ইউ শব্দের মতো সে তুমি ছাড়া আর কিছু বলতে শেখোনি।
বুড়ি খনখনে গলায় বলল ‘আমি মানে আমরা হচ্ছি যাযাবর ডাইনি। আমরা বন থেকে বনে, রাজ্য থেকে রাজ্যে উড়ে বেড়াই, ঘুরে বেড়াই। আমরা পরীরাজ্যের উপর দিয়েও উড়ে বেড়াই। এখন যাচ্ছি পরীরাজ্য কফর নাগমে। সেখানে সব খারাপ পরীদের বাস। আমরা ওদের উপর তুকতাক করে ওদের কিছু কিছু পরীকে ভালো পথে এনে নজীবীন পরীরাজ্যে পৌঁছে দেই। তবে ওদের ভালো করা খুব একটা সহজ নয়। (চলবে)