ঊনত্রিশ
ডাইনিদের মধ্যে যেমন তোমার বা তোমাদের মতো ভালো ডাইনি আছে যারা সবসময় অন্যের ভালো চিন্তা করে, অন্যের ভালো করার জন্য দিনের পর দিন উড়ে বেড়ায়। তেমনি আমাদের মানুষের মধ্যে অনেক মানুষ আছে যারা খারাপ ঠিক তোমাদের খারাপ ডাইনিদের মতো। এমনকি তাদের চেয়েও আরো খারাপ। মানুষেরা যখন ডাইনি হয় তখন তারা খুব খারাপ, খুব ভয়ঙ্কর হয়।’ একসাথে এতগুলো কথা বলে রিয়াজ কেমন যেন হাঁপিয়ে ওঠে।
ডাইনি বুড়ি সমঝদারের মতো তার সাদা মাথা নাড়ে, ‘হু হু, বুঝেছি, বুঝেছি। কাজেকর্মে মানুষও ডাইনি হতে পারে, আবার ডাইনিরা ভালো কাজ করলে মানুষের মতো হতে পারে। ভালো মানুষের মতো।’
রিয়াজও মাথা নাড়ে ‘তা তো পারেই। তোমার মতো ভালো ডাইনি হতে পারে।’
পিছনের গাছের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাইনিরা ব্যস্ত সমস্ত ভাব লাগাতেই বুড়ি ডাইনিও যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।’
বুড়ি ডাইনি রিয়াজের খুব কাছে চলে আসে। একেবারে কাছে। তারপর রিয়াজের মাথায় হাত রাখে। রিয়াজের একটুও ভয় লাগে না। তার মামীর মতো মানুষরূপী ডাইনির গঞ্জনা শুনতে অভ্যস্ত রিয়াজের কাছে ডাইনিরূপী এই বুড়িটার মিষ্টি কথা তার মায়ের মতো মনে হয়।
ডাইনি তার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে ‘বাছা, আমার যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। আমার সঙ্গী সাথীরা আমাকে ডাকছে। এক্ষুনি আমাদের বেরিয়ে পড়তে হবে কহর নগম রাজ্যের উদ্দেশে। সেখানকার বিপদগ্রস্তদের রক্ষা করতে। আর দেরি করলে চলবে না। (চলবে)
