তেত্রিশ.
যাদের হৃদয়ে ভালোবাসা বেশি তাদের সাহসও বোধ হয় বেশি। ভালোবাসতে শিখলে সাহস আপনাআপনিই বেড়ে যায়।
সাহস বেড়ে যাওয়ার কারণেই কিনা কে জানে, রিয়াজের খুব ঘুম পেতে থাকে। তিতলী পরী কখন আসে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। সে ঘুমিয়ে গেলে নিশ্চয় তাকে ডেকে তুলবে। তা ছাড়া পরিবেশটাও বেশ ঘুমের উপযুক্ত। আকাশজোড়া চাঁদের আলো চুইয়ে চুইয়ে আসছে সারি সারি গাছের ফাঁকফোকর গলিয়ে। ফির ফির করে ঠাণ্ডা বাতাসের ছোঁয়া ডাকছে ঘুমের রাজ্যে। একটানা একঘেয়ে স্বরের ঝিঁঝির ডাক,রাত জাগা দু-একটা পাখির থেকে থেকে নিসঙ্গ ডাক, বনের নিজস্ব বিজবিজানি, তিরতির করে পাতার কাঁপন সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক অসাধারণ আবহ সঙ্গীত শুনতে শুনতে রিয়াজ ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপন দেখে সে চলে গেছে তাদের গ্রামের বাড়িতে। বাবা-মা আর ছোট বোন মনাকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। রোজার ঈদের আগের দিন। সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে উৎকণ্ঠা, হৈ চৈ চাঁদ দেখা গেলে সমস্বরে চেঁচিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়া। তারপর দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বড়দের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা। রাতে বাবার নাটকীয়ভাবে তাদের জন্য আনা নতুন জামা জুতো বের করা। সেই জামা জুতা মাথার কাছে রেখে ঘুমানো। ঘুম আসে না। একটু পরপর উঠে সেটা হাত দিয়ে দেখা। দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়া। ভোররাতে মায়ের নারকেল কোরার শব্দে জেগে ওঠা। মায়ের সাথে সেমাই বাছা। কাঁচা চিনা বাদামের খোসা ছাড়ানো। খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে দু-একটা মুখে পুরে দেয়া। মায়ের মৃদু ধমকের আদুরে বকুনি। স্বপ্নের মধ্যেই রিয়াজের কেমন যেন খটকা লাগে।
(চলবে)
