চৌত্রিশ.

এতক্ষণ ধরে চলতে থাকা প্রাকৃতিক আবহ সঙ্গীতটা হঠাৎ করে থেমে গেছে। চার দিকে অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। এই নিস্তব্ধতা এই নৈঃশব্দের তীব্রতা এত বেশি যে রিয়াজের স্বপ্ন এবং স্বপ্নের সাথে সাথে ঘুম ভেঙে যায়।
সে হতবিহবল চোখে চার দিকে তাকায়। চাঁদের আলোর প্লাবন আগের মতোই আছে। সে যে গাছের নিচে হেলান দিয়ে শুয়েছিল সে সবও ঠিক আছে। ঠিক আছে গাছপালাও। তবুও যেন মনে হচ্ছে কী যেন ঠিক নেই।
চার দিকে কোনো শব্দ নেই। সব অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ। আর সেই নিস্তব্ধতার উৎস খুঁজতে সে চার দিকে তাকায়। সামনের দিকে তাকাতেই সে চমকে ওঠে।
তার সামনে, যেখানে ডাইনির দল এসে দাঁড়িয়েছিল সেখানটাতে অনেক মানুষের ছায়া এলোমেলোভাবে ঘোরাফেরা করছে। তার কেমন যেন সন্দেহ হয় ছায়াগুলো ইতস্তত ঘোরাঘুরি করলেও ওদের সবারই লক্ষ্য যেন এক। সবাই যেন কোনো না কোনোভাবে তাকেই দেখার চেষ্টা করছে।
মানুষ ছোট হলেও সে এটুকু জানে যে ছায়া দেখা গেলে তার সাথে অবশ্যি অবশ্যি মানুষ থাকবে। মানুষ ছাড়া মানুষের ছায়া কে কবে শুনেছে বা দেখেছে?
সে ছায়ার উৎস অর্থাৎ ছায়ার মানুষগুলোকে খুঁজতে আশপাশে তাকায়।
বেশির ভাগ ছায়া পড়েছে মাটিতে। কিছু কিছু লম্বা লম্বা গাছের গায়ে গাছের আকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে লম্বা খাটো হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন রকমের ছায়া।
বড় ছায়া, ছোট ছায়া, মোটা ছায়া, রোগা ছায়া, উঁচু ছায়া, নিচু ছায়া, বেটে ছায়া, লম্বা ছায়া, হোৎকা ছায়া, শুটকো ছায়া, বয়সী ছায়া, কম বয়সী ছায়া, ছেলে ছায়া, মেয়ে ছায়া, কিশোর ছায়া, কিশোরী ছায়া, শিশু ছায়া, বুড়ো ছায়া, বুড়ি ছায়া, জোয়ান ছায়া, খোড়া ছায়া, ল্যাংড়া ছায়া, কানা ছায়া, কুঁজো ছায়া। (চলবে)