তেতাল্লিশ.

রিয়াজ আবার সেই আগের গাছটার নিচে এসে গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসে পড়ে। তার মামার কাপড় চোপড়গুলো বেশ কাজ দিচ্ছে। ওর উপরে বেশ আরামসে বসা যাচ্ছে। তার মামী যদি কখনো তাকে এরকম ভাবে কাপড়ের ওপর বসতে দেখত তাহলে পিটিয়ে তার পিঠের ছাল তুলে দিতো। ভাগ্যিস এখানে পিঠের ছাল তোলার কেউ নেই।
রিয়াজ বসে বসে সামনের ট্রাফিক পয়েন্টের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই ট্রাফিক পয়েন্ট দিয়ে যখন একের পর এক যাযাবর ডাইনিরা, ছায়ারা যাচ্ছে তখন দেখাই যাক না এরপরে আর কারা আসে।
বসে বসে একদৃষ্টিতে ট্রাফিক পয়েন্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার ঘুম পেয়ে যায়। একে তো মামীর বাসায় সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারত না। তার উপরে এখানে এরকম ফুরফুরে নরম বাতাস বইছে যে ঘুম না এসে উপায় আছে! যদিও পেটের মধ্যে খিদেটাও জানান দিচ্ছে থেকে থেকে। তবে সেই সামান্য খিদে ঘুমের কাছে হার মানে।
‘এ্যাই রিয়াজ এ্যাই’ গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয়ার সাথে সাথে তার ঘুম চটে যায়। সকাল ৫টায় তার মামী তাকে ডেকে সকালের কাজের ফরমাশ দেবে ভেবে সে ধড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে। মামী আজ এত নরম গলায় ডাকছে কেন সে ভেবে পায় না। অন্যদিন তো তাকে ডাকতে গিয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তোলে।
রিয়াজ উঠে বসে চোখ কচলে চোখ মেলে তাকাতেই এক ঝলক সূর্যের নরম সোনালি আলো তার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। সে আবার চোখ বন্ধ করে ফেলে।
‘কি হলো চোখ বন্ধ করে ফেললে কেন? ঘুম ভাঙেনি এখনো! (চলবে)ু