পঞ্চাশ.
তিতলী পরী মাটিতে তার গোলাপি পায়ের সোনালি জুতো দিয়ে একটু চাপ দিতেই আস্তে আস্তে তিতলীর দু’পা একটু একটু করে মাটি থেকে শূন্যে উঠে যায়।
দেখতে দেখতে তারা বিশাল পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যায়।
রিয়াজ তিতলী পরীর দু’ডানার পাশ দিয়ে সুগন্ধী কাঁধের উপর দিয়ে কোথায় এলো দেখতে থাকে।
পাহাড়ের চূড়ার উপর দিয়ে ওপাশের নিচের দিকে তাকাতেই তার চক্ষু স্থির।
রিয়াজ দেখে হিমবাহ আর কুয়াশার চাদরের মধ্যে যেন শূন্যে ভেসে আছে এক দেশ। কুয়াশার চাদর এড়িয়ে তিতলী পরীর সাথে নিচে নামতে নামতে যেটুকু সে বুঝতে পারল তাতে বুঝল যে দেশটা ধবধবে সাদা। একই রকমের উপরের দিকে গম্বুজাকৃতি হাজার হাজার গোলাকৃতির বাড়িঘর প্রাসাদ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বড় বড় সব গাছপালা তাতে বড় বড় সব ফুল ফুটে আছে। ফুলগুলো কতকটা তার দেখা সূর্যমুখী ফুলের মতো। কিন্তু সাইজ তার কয়েক ডাবল।
তিতলী পরী আনন্দিত কণ্ঠে বলল, ‘সামনে যে শ্বেত শুভ্র রাজ্য দেখতে পাচ্ছ ওটাই আমাদের রাজ্য। নজীবীন রাজ্য। আমরা ওখানেই যাচ্ছি। এসেই পড়েছি বলতে গেলে।’ তিতলী পরীর কণ্ঠে খুশির আমেজ। নিজের ঘরে ফেরার আনন্দের সাথে কোনো আনন্দের তুলনা হয়! হোম। সুইট হোম।
পরীর পিঠ থেকে নেমে হাত পা ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙতে চায় রিয়াজ। কিন্তু পরীর তাড়াহুড়োয় সেটা ঠিকমতো হয়ে ওঠে না।
তারা প্রমাণ সাইজের রাজ্যপ্রাচীরের কাছে গিয়ে পৌঁছাল। অনেক উঁচু চওড়া প্রাচীর। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার প্রাচীরের সাদা তোরণের কাছে কাউকে পাহারা দিতে দেখে না রিয়াজ। (চলবে)
