ষাট.

বাজার সেরে বাড়িতে ফিরে এসে তিতলী পরী দেখে স্কুল থেকে ওর মা ফিরে এসেছে।
তিতলী পরী বাজারের জিনিসগুলো ট্রলি থেকে নামিয়ে সাজিয়ে রাখতে রাখতে ওর মায়ের সাথে রিয়াজের পরিচয় করিয়ে দেয়। কিভাবে রিয়াজকে সাহায্য করতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার সময় ধরে ফেলে, পৃথিবীতে কী করত এসব তিতলী সবিস্তারে বর্ণনা করতে থাকে। রিয়াজ কিছু না বলে মুখ হাসি হাসি করে রেখে তিতলী পরীর মায়ের সামনে বসে থাকে।
তিতলী পরীর মা, মিসেস তিলোত্তমা পরমা সুন্দরী। তিতলী পরী যে এত সুন্দর কেন তা ওর মাকে দেখে বোঝা যায়। সব পরীই বোধহয় পরমা সুন্দরী।
পৃথিবী ভ্রমণ শেষে ওদের পেটে এখনো কিছু পড়েনি শুনে মা ব্যস্ত হয়ে ওঠে। তিতলীকে আর বকবকানির সুযোগ না দিয়ে ধবধবে সাদা টেবিলক্লথ বিছানো ডাইনিং টেবিলে খাবার পরিবেশন করে ওদের বসতে বলে। পরীদের দুজনের খাবার আগুনের বলে রিয়াজকে একটু দূরে সরে বসতে হয়। রিয়াজের সামনে রাখা পানির পাত্র থেকে পানি ছিটকে আগুনে পড়লে খাবার নষ্ট হয়ে যাবে।
খেতে খেতে মা পরী বলে, ওখানে যখন অত কষ্ট করতে হয় তোমাকে, তুমি থেকে যাও আমাদের সাথে। এখানকার স্কুলে তোমাকে ভর্তি করিয়ে দেবো। তুমি মানুষ তো, রেসিডেন্সিয়ালে না থাকলেও চলবে। আমাদের বাড়ি থেকেই স্কুলে যাবে তুমি। আমিই সাথে করে নিয়ে যাবো।
রিয়াজ বার্গার জাতীয় প্যাকেটে মোড়া খাবারটা রাপিং পেপার থেকে বের করতে করতে বলে, আমার দেশে যত কষ্টেই থাকি না কেন প্রতি ঈদে এবং মাঝেমধ্যে বাবা বোন ও খেলার সাথীদের দেখতে যেতে পারি আমি। (চলবে)