ছিয়াশি.
মানুষেরা তাদের কাজ ডাইনিদের চেয়ে ভালোই জানে। তা ছাড়া তোমার সাহস বিবেক বুদ্ধি ভালোবাসা সব বাড়িয়ে দিয়েছি আমি। সেটাই ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারলে কোনো বাধাই তোমার মাকে খুঁজে পেতে বাধা হবে না।
রিয়াজ ইতস্তত করে বলল, ওরাও দেখতে ভালো পরীদের মতো? দুষ্ট পরী শুনে রিয়াজের ভাবনা হয়েছে ওদের চেহারা ভয়ঙ্কর হয়।
ডাইনি বুড়ি প্রশ্রয়ের হাসি হেসে বলল, তা নয়। পরীদের চেহারা যেমন সুন্দর তেমনই সুন্দর ওরা সবাই। বরং আরেকটু বেশি সুন্দর। বাইরের চেহারা দিয়ে ভেতরের মনটাকে বোঝা যায় না।
রিয়াজ মাথা নিচু করে বলল, তুমি হয়তো ঠিকই বলেছ। সত্যি বলতে, তোমার চেহারাটা কুৎসিৎ হলেও তুমি এত ভালো যে বাইরে থেকে দেখে বোঝাই যায় না।
ডাইনি বুড়ি রিয়াজের প্রশংসা শুনেই কিনা কে জানে, খুশি হয়ে বলল, ওহ আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত তাহলে অদৃশ্য হওয়ার বরটা তোমাকে দিয়ে যেতাম। তুমি অদৃশ্য হয়ে দুষ্ট পরী রাজ্যে ঘুরে তোমার মাকে খুঁজতে পারতে। ওরা তোমাকে দেখতে পেত না। কিন্তু সে ক্ষমতা আমার নেই। সেটা দুষ্ট ডাইনি রাণী জিলাজিলের অধীনে। তোমাকে কি দেই বলো বাছা? যেটা থাকলে দুষ্ট পরীরাজ্যে তোমার কিছুটা উপকার হয়।
রিয়াজ দুদিকে সজোরে ঘন ঘন মাথা নাড়তে নাড়তে বলে, কিছুই দিতে হবে না আমায়। তুমি যে তোমার সব কাজ বাদ দিয়ে আমার সাথে এতদূর এসেছ এতেই আমি খুশি। আমার আর কিছু লাগবে না।
ডাউনি বুড়ি আর কিছু না বলে দু-তিন পাক ঘুরে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। রিয়াজের সামনে হাত বাড়িয়ে দিতেই দেখে একজোড়া রুপালি চকচকে মুখ সুচালো রাজকীয় জুতো। যেরকম একজোড়া ডাইনি বুড়ির পায়ে। (চলবে)