তুজিয়া জাতির কথা বলছি। এদের পরিচিতি তুজিয়া হিসেবে কিন্তু নিজেদেরকে এরা অভিহিত করে বিজিকা নামে, যার অর্থ আদিবাসী। তুজিয়ারা সংখ্যায় ৮ মিলিয়নের বেশি। চীনের এই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে দেখা যায় হুনান, হুবেই, সিচুয়ান ও গুইঝৌ প্রদেশে। সাগর সমতল থেকে তুজিয়াদের মূল আবাসভূমির উচ্চতা ৪০০-১৫০০ মিটার।
সংখ্যালঘু এ জাতির রয়েছে প্রায় ২ হাজার বছরের ইতিহাস। ধারণা করা হয়, এদের পূর্বপুরুষরা হুনান প্রদেশের পশ্চিম এলাকায় এবং হুবেই প্রদেশে প্রাচীনকালে বসতি স্থাপন করে। তবে কোথা থেকে এরা এসেছিল তা স্পষ্ট নয়।
তুজিয়ারা যে ভাষায় কথা বলে তার নামও তুজিয়া। এটি একটি মৌখিক ভাষা। তিব্বত ও মিয়ানমারে ব্যবহৃত ভাষাগুলোর সাথে এ ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে। তুজিয়ারা চীনা ভাষাও ব্যবহার করে।
তুজিয়া সমাজ পূর্বপুরুষ ও বহুদেবতাবাদের শক্তিতে বিশ্বাস করে। সাদা বাঘকে এ জাতি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করে। এরা বিশ্বাস করে এ বাঘ এদেরকে অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।
কৃষিকাজ ও মাছধরা তুজিয়াদের প্রধান জীবিকা। তুং তেল ও চা এদের অর্থকরী ফসল। তুং তেল পাওয়া যায় তুংবীজ থেকে। বার্নিশ ও রঙের কাজে এ তেল ব্যবহৃত হয়। তুজিয়া এলাকায় পর্যটনও বেশ জনপ্রিয়। এখানকার ঝাংজিয়াজি বনের অপার রূপ আকর্ষণীয়। য়ুলিং ও য়ুদাং পর্বতও রূপের ডালা সাজিয়ে বসে আছে পর্যটকদের জন্য। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে তুজিয়াদের গৌরবের সীমা নেই।
ভাত ও শস্য তুজিয়াদের প্রধান খাদ্য। আঠালো ভাত থেকে তৈরি মদ এবং টক সবজি এদের খাবারের সাধারণ পদ।
তুজিয়া সংস্কৃতি বেশ শক্তিশালী। এরা নুও জি পালন করে। দেবতার আরাধনা থেকে এ অনুষ্ঠানের উদ্ভব। চীনা চান্দ্রবৎসরের শেষ মাসে এ সংস্কৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়। এতে থাকে নাচগান, সঙ্গীত ও কবিতা।
দক্ষতানির্ভর পেশা বা শিল্প কৌশলে তুজিয়ারা অনন্য। নারীরা ঐতিহ্যবাহী কাপড় তৈরি করতে দক্ষ। এরা খুব সুন্দর বিছানার চাদর বোনে। এ চাদরকে বলা হয় জিলাংকাপু। বর্ণিল এ চাদর প্রায় এক শ’ ধরনের। এরা খাটো কোট পরে। এ কোটের হাতা ফুলেল মিহি স্বচ্ছ সিল্কের। পুরুষদের কোটও খাটো। শুধু বড় উৎসবে এ জাতি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। এদের দৈনন্দিন পোশাক হ্যানদের মতো।
তুজিয়ারা সাধারণত দোতলা বাড়িতে বসবাস করে। এরা নিচের তলায় পশুপাখি রাখে।
তুজিয়ারা বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন করে। এগুলোর মধ্যে তুজিয়া বর্ষ (এধহহরধহ) প্রধান। এটি পালন করা হয় হ্যানদের চান্দ্র নববর্ষের আগে।