তু একটি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নাম। চীনের এই সংখ্যালঘু জাতির বসবাস প্রধানত কিনঘাই প্রদেশের হুঝু, মিনহি ও দাতুং জেলায় এবং গানসু প্রদেশের কয়েকটি জেলায়।
তুরা কথা বলে তু ভাষায়। এটি একটি মৌখিক ভাষা- লিখিত রূপ নেই। ভাষাটি আলতাইক ভাষা পরিবারের মঙ্গোলিয়ান গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তু জনগোষ্ঠী চীনা ভাষায় লেখাপড়া করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এরা নতুন সৃষ্ট বর্ণমালাও ব্যবহার করেছে।
তু সমাজে সর্বপ্রাণবাদ, তাওবাদ এবং তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচলিত।
পশ্চিম চীনের ভৌগোলিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তু সংখ্যালঘুরা পশুপাখি পালন এবং কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করে।
কিংকে ও গম তুদের প্রধান খাদ্য। উচ্চ ভূমির এক ধরনের যবকে কিংকে বলে। এরা টক, শাক-সবজি ও গোশত খায় এবং পান করে চা ও মদ। কিংকে হতে এরা মদ চোলাই করে। চোলাইয়ের সময় এরা মদের সাথে কখনো কখনো ভেষজ মেশায়। ভেষজমিশ্রিত মদে ঠাণ্ডা-কাশি ও বাতজ্বর উপশম করার গুণ রয়েছে। বিশেষ ও বিরল অতিথিদের এরা ছাগলের সুস্বাদু সিদ্ধ গোশত দিয়ে আপ্যায়ন করে।
তু সমাজে আদবকায়দা বা নম্র আচরণের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়। উষ্ণ আতিথেয়তায় অতিথিদের বরণ করে এরা। ‘অতিথির আগমন সুখ আসার নামান্তর’- এই প্রবচনটি তু সমাজে প্রচলিত রয়েছে। অতিথির সম্মানে এরা অতি সুগন্ধি চা পরিবেশন করে। আর তার সুখ-সাফল্য কামনা করে তুলে ধরা হয় তিন পেয়ালা মদ, যাতে প্রতিফলিত হয় হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও সম্মান।
তুরা উচ্চ কলারের জামা পরে এবং লম্বা কোমরবন্ধনী ব্যবহার করে। এগুলোতে বিভিন্ন ফুলের নকশা অঙ্কিত থাকে। পুরুষরা একধরনের পট্টি (পাটি) ব্যবহার করে। এ পট্টি হাঁটু থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত রক্ষার জন্য পেঁচিয়ে রাখা কাপড়।
তুরা বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন করে। এগুলোর মধ্যে বসন্ত উৎসব, ড্রাগন নৌকা উৎসব ও জুলাই সভা উৎসব প্রধান। জুলাই সভা উৎসব বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; এটি তুদের খাঁটি উৎসব হিসেবে বিবেচিত। এ উৎসবকে নাদুন উৎসবও বলা হয়। এটি ফসল তোলার পরের একটি আনন্দোৎসব। এ উৎসবে আরাধনা, ভূরিভোজন, মুষ্টিযুদ্ধ, মার্শাল আর্ট ও ঘোড়ায় চড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।
তু সমাজে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আছে, যেমন-দাগযুক্ত বাটি বা পেয়ালায় অতিথিকে চা পরিবেশন করা যাবে না। অবিবাহিত মেয়ের কক্ষে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
তু জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার।
