একশ’ বারো
রিয়াজ ফিসফিস করে কাকা পরীকে বলল, বাবুর জন্য ওরা খুব কান্নাকাটি করছে। তুমি বাবুকে নিয়ে গিয়েছিল আবার ফিরিয়ে দিয়ে যাও। আজই।
ঠিক আছে বাবা ঠিক আছে। ওদের একটু শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এখন তুমি যখন বলছ, আর মনে হয় ওদের শিক্ষাও হয়ে গেছে, তখন ফিরিয়ে দিয়ে যাবো।
কখন ফিরিয়ে দেবে?
দেবো। রাতের মধ্যেই দিয়ে যাবো। জানো তো আমাদের কাজ কারবার সব রাতবিরাতেই। তার আগে চলো তোমার মাকে খুঁজে আসি।
তাই চলো। ওই দেখো কেউ একজন আমাকে দেখে এগিয়ে আসছে। রিয়াজ তাড়াতাড়ি অন্ধকারের মধ্য দিয়ে ছাদে উঠে গেল। কাকার সাথে ছাদে থেকে উড়াল দিলো মায়ের খোঁজে।

রাত বাড়তে থাকে। কিন্তু মায়ের খোঁজের কোনো বিরতি নেই। কাকা মায়ের ব্যবহৃত কাপড়ের গন্ধ শুঁকে শুঁকে এগুতে থাকে। এক শহরের উপর থেকে আরেক শহরের উপর দিয়ে উড়ে যেতে থাকে। রিয়াজের ঘুম ঘুম ভাব চলে এলেও ঘুমাতে চায় না সে। মায়ের খোঁজ পেলে সবার আগে সেই দেখতে চায়। রিয়াজ মাঝে মধ্যে ঘুম ঘুম চোখে জানতে চায়, কাকা? আর কতদূর? কোনো খোঁজ কি পেলে?
মনে হয় কাছাকাছি চলে এসেছি। তোমার মায়ের শরীরের গন্ধটা খুব তীব্র হয়ে ধরা দিচ্ছে।
তাহলে তাড়াতাড়ি চলো কাকা।
একটা সমস্যা থেকে যাচ্ছে কিন্তু। কাকা ইতস্তত করে বলল, ধরো তোমার মাকে পেয়ে গেলাম। কিন্তু সেখান থেকে নিয়ে আসব কী করে? (চলবে)