দুই.
বাজারের রাস্তা শেষ হয়ে যেখানে ওয়াপদার রাস্তার সাথে মিশে গ্রামের পথ ধরেছে সেই তিন মাথার মোড়েই ভয়ের জায়গাটা। যদিও আব্বার মতো বড়দের কাছে ওই পথটুকুতে কখনো ভয়ের কথা শুনিনি। শুধু আমাদের মতো ছোট আর কিশোরদের কাছেই যেন ভয়ের অস্তিত্ব।
তিন মাথার মোড়ের কাছে আসতেই হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম। চোখের সামনেই জলার পাড়ে সেই ভয়ঙ্কর ন্যাড়া শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন গাবগাছটাকে দেখতে পাচ্ছি। গাবগাছের গোড়ার বিশাল পরিধির দিকটাতে এত বেশি ফোকর হয়ে ভেতরে অন্ধকার জমে থাকে যেন মনে হয় ওটাই সব ভয়ের আস্তানা। তা ছাড়া এই গাবগাছ নিয়ে অনেক ভূতের গল্প চালু আছে। ছোটদের সবার ধারণা, এই গাবগাছের খোড়লের মধ্যেই ভূতেরা দিনের বেলা বিশ্রাম করে। আর রাতে মানুষকে ভয় দেখাতে বেরিয়ে পড়ে।
তাকাব না-তাকাব না করেই গাবগাছের গোড়ার দিকের ফোকরের মধ্যে তাকালাম। কিছু নেই। আর কিছু না থাকায় যেন আমার ভয়টাকে আরো বাড়িয়ে দিলো।
হঠাৎ কোত্থেকে এক দমকা বাতাসে আমার হাতের কাচের বোতল হাত থেকে টুপ করে খসে ইটের রাস্তার উপর পড়ে ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। তেল গড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ল রাস্তা থেকে ঢালু বেয়ে নিচের সেই জলার দিকে। হতভম্ব আমি তেল হারানোর শোকে যখনই বিধ্বস্ত তখনই মনে হলো কেউ যেন আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো। আমি রাস্তায় গড়িয়ে পড়া তেলের উপর পড়ে পিছলে গেলাম। পেছনের ধাক্কায় অথবা তেলের উপর পিছলানোর কারণে একেবারে রাস্তা থেকে গিয়ে সেই গাবগাছের পাশ দিয়ে গিয়ে পানি কমে আসা জলাশয়ের মধ্যে পড়লাম। (চলবে)