(গত দিনের পর)
কিন্তু কে শোনে কার কথা। রাজপুত্রের এখনি যাওয়া চাই। তার আর ত্বর সইছে না। আজই তাকে সপ্তডিঙ্গা নৌকাখানি সাজিয়ে দিতে হবে। প্রিন্স রিঙ বলে, ‘না বাবা, আমি আর সময় নেবো না। আমাকে সাম্পান সাজিয়ে দাও। সাজিয়ে দাও মাঝি মাল্লাদেরকে। আমি আজই যাবো সাগর পাড়ি দিতে।’
রাজা আর কী-ই বা করেন। তিনি উজির-নাজিরকে বলে দিলেন, ‘সাজিয়ে দাও সপ্তডিঙ্গা সাম্পানখানি। আমার পুত্র আজ সাগর পাড়ি দিবে। সে প্রিন্সেস সিগনির দেশে যাবে।’
রাজার আদেশ। যথাসময়ে ‘সপ্তডিঙ্গা নাও’ সাজানো হয়ে গেলো। প্রস্তুত হলো সাম্পানের মাঝি ও মাল্লারা। রাজা, বাণী ও ছোট বোন প্রিন্সেস প্যানুলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে প্রিন্স রিঙ রওয়ানা হয় সাগর পাড়ি দিতে। সাগরের ঢেউ ঠেলে শাঁ শাঁ শব্দে ছুটে চলে প্রিন্স রিঙের সাম্পান। এক দিন যায়, দুই দিন যায়, তিন দিন যায়। এভাবে সাত দিন ও সাত রাত চলে যাওয়ার পর প্রিন্স রিঙ পৌঁছে যায় প্রিন্সেস সিগনির রাজ্যে।
কিন্তু হায়! এই রাজ্যে এসে প্রিন্স রিঙ শুনতে পায়, রাণীর মৃত্যু সংবাদ আর সিগনির পিতার যুদ্ধক্ষেত্রে গমন। প্রিন্স রিঙ আরো জানতে পারে যে, প্রিন্স আসমান্ড ও তার বোন প্রিন্সেস সিগনি রাজপ্রাসাদে নেই। তারা চারুবনের গহিন জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়ে আছে। প্রিন্সেস সিগনিকে দেখতে না পেয়ে প্রিন্স রিঙ উ™£ান্তের মতো হয়ে যায়। (চলবে)